সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় ও প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় অনেকেই জানতে চান। কারণ শুকনা হওয়ার কারণে অনেকে শারীরিক অসুস্থতায় ও মানসিক বিষাদগ্রস্থ থাকেন। তাই রোগা হওয়ার জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা জানা জরুরী।
সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ঘরোয়া উপায়ে মোটা হওয়া যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ চান। আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা মোটা হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা বিষয়ক পরামর্শ দিয়েছি।

পেজ সূচিপত্রঃ সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় জানতে বেশিরভাগ মানুষই উত্তর খুঁজে থাকেন। কারণ ওজন কম হওয়া খুবই মুশকিল বিষয়। ওজন বৃদ্ধি পাওয়া যেমন খারাপ ওজন কম হওয়াও ক্ষতিকর। তাই ওজন কমানোর জন্য যেমন মানুষ সব সময় সচেতন থাকেন তেমনি ওজন বাড়ানোর বিষয়েও সচেতনতা জরুরি। তা না হলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।


এমন অনেক ধরনেরই উপায় রয়েছে তা যদি আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখি বা নিয়ম মেনে চলি তবে আমাদের শরীর সঠিকভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই নিয়মিত এই নিয়ম মেনে চলা জরুরী।

তাই অনেকেই আবার খুব কম সময়ের মধ্যে ওজন বাড়াতে চান। সেই উপায়ও আমাদের কাছে রয়েছে। সাতদিনে সহজেই ওজন বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকা জরুরী। এবং খাওয়া দাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। নিচে সাতদিনে মোটা হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
  • মোটা হওয়ার চেষ্টা করার আগে শুরুতেই আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে আপনি মানসিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা। অনেক সময় মানসিক অসুস্থতার জন্য শরীর খারাপ হয়ে যায়। তখন খাওয়া দাওয়ার প্রতি অরুচি হয়। তাই আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন এ সময় আপনি বেশি খেতে পারবেন না। তাহলে আপনি দ্রুত মোটাও হতে পারবেন না।
  • এখন আপনাকে অবশ্যই একটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ডায়েট প্লান অনুযায়ী খাবার খাওয়া শুরু করতে হবে। আপনার ডায়েটে পরিমিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট প্রোটিন ভিটামিন ও সব ধরনের উপকারী উপাদান সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।
  • সহজলভ্য ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলবেন। বেশি পরিমাণে শাকসবজি এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন। এক্ষেত্রে দুধ মাছ দই ডিম এসব খাবার খাওয়া খুবই উপকারী। এছাড়া মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন। তবে পরিমাপ মতো খাওয়া জরুরী।
  • অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব খাবার আপনাকে মোটা করে তুলতে পারে কিন্তু আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন। গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ও কম ক্যালরি যুক্ত খাবার খেলে আপনি বেশি করে খেতে পারবেন এবং আপনার পেট ভরা থাকবে।
  • প্রতিদিন মিষ্টি জাতীয় খাবার এরমধ্যে শুকনা ফল যেমন খেজুর বাদাম খুবই উপকারী। এবং প্রচুর প্রোটিন এবং মিষ্টি জাতীয় উপাদান থাকে। প্রচুর ক্যালরি থাকার কারণে আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
  • যে খাবারই খাবে না কেন বেশি পরিমাণে প্লেটে নিবেন। এতে আপনার খাওয়া দাওয়া এর পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং আপনার অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে যুক্ত হবে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মধু শরীরের জন্য এন্টি ভিটামিন হিসেবে কাজ করে। এছাড়া যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে ঘুমানোর আগে দুধ আর মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এগুলো আপনার শরীরকে অতিরিক্ত প্রোটিন যোগাতে সাহায্য করবে। এবং ওজন বৃদ্ধি পাবে।
  • অবশ্যই দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য বা শরীর ভালো রাখার জন্য ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। ব্যায়াম আপনার শারীরিক সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে। খুব সাধারন টাইপ যেমন দৌড়, দ্রুত হাঁটা, সাইকেলিং বা সাঁতার আপনার শরীরের জন্য উপযোগী এমন ধরনের শরীরচর্চার অভ্যাস করুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। মেনে চলুন যেন প্রতিদিন ৬ ঘন্টা রাতে ঘুমাতে পারেন। ঘুম শরীরের সুস্থতার জন্য খুবই জরুরী। এবং অতি দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য ঘুম খুবই উপকারী।
তাই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে উপরের দেখানো পদক্ষেপ গুলো মেনে চললে আপনি খুব তাড়াতাড়ি সাত দিনের মধ্যেই ওজন বাড়াতে সক্ষম হবেন। এবং আপনার শরীর সুস্থ থাকবে ও মন মেজাজ ভালো হবে। শরীরের সুস্থতা ছাড়াও মুখের উজ্জ্বলতা এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এসব খাবার খাওয়া জরুরী।

রোগা হওয়ার জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা

মোটা হওয়ার জন্য ঘরোয়া উপায়ে সাধারণ মানের খাদ্য উপাদান প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা জরুরী। এমন সব খাবার রাখা উচিত যেগুলো উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন ও শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই ৭ দিনে মোটা হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এর স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা। এজন্য নিচে মোটা হওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কি কি স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকায় থাকা জরুরী তা দেওয়া হল।

সকালের নাস্তাঃ

দুধ শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি খাবার। প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে শরীর সুস্থ রাখে ও হাড় মজবুত করে। আর যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তারা অন্য কোন ধরনের খাবার না খেলেও এক গ্লাস দুধই তাদের সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য একাই একশ।

কলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে উপকারী একটি খাবার। অনেক সহজলভ্য হওয়ার কারণে সহজেই সবাই এটা কিনে খেতে পারেন। হার্টের সমস্যার ঔষধ হিসেবে খুবই কার্যকর। তাছাড়াও এখানে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা আমাদের পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ডিম অনেকেরই অনেক পছন্দের। যারা বেশি ডিম খেতে পারেন তারা সকালবেলা দুইটা ডিম খাব। কারণ ডিমে রয়েছে মাল্টিভিটামিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং ত্বককে ভালো রাখতে ডিমের উপকার তুলনাহীন। এছাড়াও ডিমে অনেক ধরনের উপাদান রয়েছে যা আমাদের মোটা হতে সাহায্য করে।

খেজুর অনেক পুষ্টিকর একটি ফল। প্রতিদিন সকালে নাস্তার জন্য দুটি করে খেজুর খেলে খুব দ্রুত মোটা হতে পারবেন। কারণ একটি খেজুরেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে এছাড়া ফলিক এসিড বা আয়রন ও পাওয়া যায়। 

দুপুরের খাবারঃ

দুপুরের খাবার সাধারণত বাঙালিরা প্রচুর পরিমাণে ভুরিভোজ করে খায়। যেহেতু আমরা দুপুরের জন্য খাবারের তালিকা বেশি রাখি তাই এ সময় খাবারগুলো বেশি করে খেলেও আপনার মোটা হতে অনেক কম সময় লাগবে। দুপুরের খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাবারগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

দুপুরের খাবারে অবশ্যই ডাল এর ব্যবস্থা থাকে। ডালে অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উপাদান রয়েছে। যা আপনি সহজেই ওজন বাড়াতে খেতে পারেন। এছাড়া গরুর মাংসের চর্বির অংশ না খাওয়াই ভালো এর থেকে বেশি করে ডাল খাবেন। যা প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বহন করে। এছাড়াও ডালে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ আরো অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে।

দুপুরের খাবারে আপনি মুরগির মাংস রাখতে পারেন। কারণ মুরগির মাংসের প্রোটিন আপনার দ্রুত ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। আপনি যদি বেশি করে মুরগির মাংস খেতে পারেন তবে আপনার মোটা হতে বেশি সুবিধা হবে। সাধারণত অনেকে গরু বা খাসির মাংস দুপুরবেলা খেতে বলেন। তবে এটা নিয়মিত না খাওয়াই ভালো।

খাবার শেষে টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ টক দই দুধ দিয়ে বানানো। আর এতে দুধে থাকায় পুষ্টিকর উপাদান সবই পাওয়া যায়। তাই সকালের মতো দুপুরেও শুধু দুধ না খেয়ে দই খেলে আপনার কাছে খাবারটি উপভোগ্য হবে। 

রাতের খাবারঃ

দুপুরের খাবারের মেনু রাতের খাবারের জন্যই বহাল থাকবে। একই পরিমান প্রোটিন রাতেও যদি আপনি নিতে পারেন তবে আপনি বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারবেন। আর দুপুরে খাওয়ার পর অনেকে ব্যস্ত হয়ে যান বা হাঁটাচলা বা কাজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে কিন্তু রাতে খাবার খেলে তার শরীরেই থেকে যায় পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।

আর এভাবে তিন বেলা যদি আপনি বেশি করে সঠিকভাবে খেতে পারেন এবং অবশ্যই খাবার গুলো যেন স্বাস্থ্যকর হয় এ বিষয়ে অবশ্যই সাবধান থাকা জরুরী। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে দ্রুত ঘরোয়া পদ্ধতিতে সুস্থ থেকে মোটা হওয়া বেশি উপযোগী।

সাত দিনে মোটা হওয়ার বিষয়ে কিছু টিপস

রোগা থেকে মোটা হওয়ার জন্য প্রতিদিন যদি আপনি কিছু টিপস ফলো করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি মোটা হতে পারবেন। সাধারণত সাত দিনে মোটা হওয়ার জন্য আমরা যে ধরনের উপায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি তা খুবই কার্যকর। এর সাথে যদি আপনি আপনার জীবন যাপনের কিছু অভ্যাস এর পরিবর্তন আনতে পারেন তা আরও কার্যকর হবে।

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় ও প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা

  • প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। আমাদের অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা যে ওজন কমানোর জন্য মূলত ব্যায়াম করতে হয়। কিন্তু ব্যায়াম করা উচিত সকলেরই সে মোটা হোক বা চিকন হোক। কারণ ব্যায়াম শরীরের সুস্থতা বাড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন ধরনের ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ রয়েছে। এটা ছাড়াও আপনি জিমে গিয়েও ব্যায়াম করতে পারেন। 
  • যারা বেশি খেতে পারেন না তারা একটু একটু করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ডায়েটে আপনার জন্য ২ ঘণ্টা পর পর খাবার ব্যবস্থা রাখুন। অবশ্যই প্রোটিন জাতীয় খাবারের পরিমাণ বেশি রাখবেন।
  • ওজন বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইডেট খুবই উপকারী। কার্বোহাইড্রেট রয়েছে ভাত এবং রুটিতে। তাই এসব খাবার পরিমাণের থেকে একটু বেশি করে খাবেন। তাহলে ওজন বৃদ্ধি পাবে।
  • ওজন কমানোর সময় সাধারণত আমরা বেশি পরিমাণে ক্যালোরি বার্ন করি এবং কম পরিমাণ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাই। ওজন বৃদ্ধির জন্য এর উল্টো কাজটি করতে হবে। এজন্য সাধারণত যে পরিমাণ ক্যালরি খাওয়া জরুরী এর থেকে ৬০০ বা ৭০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে।
  • অনেকে মানুষের প্রেসার বা বেশি টেনশনের জন্য খাবারদাবার খেতে পারেন না। তাই শুকিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে আপনার টেনশনের পরিমাণ কমিয়ে দিন। টেনশন মুক্ত থাকা সহজে সম্ভব নয় তবুও চেষ্টা করুন যেন টেনশনের কারণে আপনার খাওয়া দাওয়ার সমস্যা না হয়।
  • খাবারের মধ্যে প্রতিদিন অবশ্যই চকলেট বা চিজ জাতীয় খাবার রাখবেন। এই খাবারগুলো যেমন মুখরোচক তেমনি এসব খাবার পুষ্টিকরও কর হয়ে থাকে। তাই পরিমিত পরিমাণে এই ধরনের খাবার গ্রহণ করা জরুরী।
  • নিয়মিত বেশি করে পানি খাবেন। ওজন বৃদ্ধি বা ওজন কমানো যেই কারণই হোক না কেন বেশি করে পানি খাওয়া শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

১৫ দিনে মোটা হওয়ার উপায়

সাত দিনের মধ্যে মোটা হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমরা আলোচনা করলাম। এখন আমরা ১৫ দিনের মধ্যে কি করে তাড়াতাড়ি মোটা হতে পারি সে ব্যাপারে জানবো। ওজন বাড়ানোর জন্য খাবারের মান উন্নয়ন করা বা সাধারণত যে খাবারগুলো খেয়ে থাকি তার থেকে বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা জরুরী।

বিশেষ করে দুই ধরনের খাবার যদি আপনি খেয়ে থাকেন তবে বেশি কার্যকর হবে। এগুলো হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার। ব্যায়ামের ক্ষেত্রে জিমে গিয়ে যদি আপনি ট্রেনার এর পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা করে থাকেন। তবে তাদেরই নির্দিষ্ট ডায়েটের মাধ্যমে আপনি খুব তাড়াতাড়ি এবং নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে ওজন বাড়াতে পারেন।

কারণ জিমের এই ডায়েট গুলো অনেক প্রোটিন সমৃদ্ধ। আর যেহেতু আপনাকে মোটা হতে হবে তাই আপনাকে সেভাবেই তারা ট্রেনিং দিয়ে থাকবে।

প্রাতরাশে দ্রুত স্থুলতার জন্য উপযুক্ত খাবার

মোটা হওয়ার উপকারিতা পেতে হলে সর্বপ্রথম সকাল বেলার খাবার সঠিকভাবে খেতে হবে। কারন আমাদের সকাল বেলাতেই শরীর সুস্থ রাখার জন্য এবং শক্তি আনার জন্য সারাদিনের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্যালোরি খাওয়া জরুরী। কারণ সকালবেলা খাবার খেয়েই আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের যুদ্ধে নেমে যায়। 

সারাদিনের শরীর পরিচালনার জন্য সকাল বেলার খাবার অবশ্যই অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়া জরুরী। বিশেষ করে যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য সকালবেলা এমন ধরনের খাবার রাখা জরুরী যেটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন প্রোটিন আয়রন ক্যালসিয়াম সবকিছুই নিহিত থাকে। এসব ক্ষেত্রে আপনি দুধ, ডিম, খেজুর, কলা বা বাদাম এ ধরনের খাবার খেতে পারেন। 

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় ও প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা বিষয়ক কিছু প্রশ্ন

প্রশ্নঃ দ্রুত মোটা হওয়ার উপায় কি?

উত্তরঃ দ্রুত সাতদিনে মোটা হওয়ার জন্য আমরা উপরে কয়েক ধরনের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। মূলত সাধারণের তুলনায় বেশি পরিমাণ প্রোটিন, ক্যালোরি গ্রহণ করলে আপনি দ্রুত মোটা হতে পারবেন। তবে অবশ্যই তা স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকার মধ্যে খাবারদাবার হতে হবে।

প্রশ্নঃ পান্তা ভাত কি দ্রুত মোটা হতে সাহায্য করে?

উত্তরঃ পান্তাভাতে থাকা উপাদানগুলো শরীরের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে আপনি দ্রুত মোটা হতে পারবেন।

প্রশ্নঃ মোটা হওয়ার জন্য ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?

উত্তরঃ বর্তমানে অনেক ধরনের ওষুধ রয়েছে যেগুলো খেলে আপনার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না। এবং আপনি খুব সহজেই মোটা হতে পারবেন। এরকম অনেক এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি ওষুধ বর্তমানে বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।

স্থুলতার জন্য ব্যায়াম

খুব তাড়াতাড়ি মোটা হওয়ার জন্য ব্যায়াম করা স্বাস্থ্যসম্মত। ৭ দিন বা ১৫ দিন বা ১ মাস যেভাবে আপনি ওজন কমাতে চান না কেন আপনার প্রতিদিনের রুটিনে অবশ্যই ব্যায়াম করার জন্য সময় তৈরি করে নিতে হবে। কারণ ব্যায়াম শুধু শরীর মোটা বা চিকন করে না নিয়ম অনুযায়ী ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকবে।

  • জিমে অনেকে ব্যায়াম করে থাকেন ওজন লিফটিং করে। এছাড়া পুল আপ, স্কোয়াট, ডিপস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করা যেতে পারে।
  • কার্ডিও বিষয়ক ব্যায়াম যেমন সাইকেলিং, জগিং, স্বিমিং এসব করা যেতে পারে।

এসব ব্যায়াম গুলি নিয়মিত করলে শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের উপকারে আসে। তাই এগুলোকে কার্ডিও ব্যায়াম বলা হয়। তবে জিমে গিয়ে প্রফেশনালদের কাছে পরামর্শ নিয়ে যদি আপনি ব্যায়াম করেন তা বেশি কার্যকর হবে। এবং আপনার শরীরের প্রকৃতি অনুযায়ী ট্রেনার বুঝতে পারবেন যে কোন ধরনের ব্যায়াম করা জরুরী। 

স্থায়ীভাবে সাত দিনে মোটা হওয়ার জন্য ঔষধ

যারা সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় খুজচ্ছেন তারা মোটা হওয়ার ঔষুধ ব্যবহারে কার্যকারিতা পাবেন। সাধারণত মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে ওষুধ খেলে পার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। কিন্তু আমরা এখন যে ধরনের ওষুধ গুলা সম্পর্কে কথা বলব এগুলোতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 

সিনকারা সিরাপঃ

যারা দ্রুত এবং কম সময়ের মধ্যে মোটা হতে চান তাদের জন্য সিনকারা সিরাপ উপযোগী। নিয়মিত এই সিরাপ ব্যবহার করলে আপনি আপনার শারীরিক পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। এছাড়া এই সিরাপ খেলে মুখের রুচি বাড়ে।

রুচিটন সিরাপঃ

নাম শুনেই বোঝা যায় এই সিরাপটি রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এ সিরাপ নিয়মিত খেলে মানসিক দুর্বলতা চলে যায় এবং লিভারের সমস্যা থাকলেও তার সমাধান পাওয়া যায়।

আলফালফা কিউঃ

এটি মূলত একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ। দুর্বল টিস্যুগুলো সবল করতে এই ওষুধগুলো অনেক সাহায্য করে। শারীরিক দুর্বলতা কমানোর কারণে রুচি বৃদ্ধি পায় এবং শরীর সুস্থ হয়ে যায়। এই ওষুধ স্থায়ীভাবে মোটা হতে সাহায্য করে। কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। 

গুড হেলথ ভিটামিন ক্যাপসুলঃ

এই ভিটামিন ক্যাপসুলে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন মিনারেল রয়েছে। এ কারণেই ওষুধটি খেলে অতিরিক্ত ভিটামিন বাড়াতে সাহায্য করবে। আর এই ভিটামিন ক্যাপসুলটি খেলে আপনি সাত দিনেই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।

এ ধরনের আরো অনেক ওষুধ রয়েছে যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভেষজ পাতা যেমন সজিনা পাতা বা মরিঙ্গাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে।

যাদের রক্তশূন্যতা রয়েছে এবং মেয়েদের মাসিকের সমস্যা রয়েছে তারা এই পাতাগুলো খেলে সমস্যার সমাধান পাবেন। এছাড়াও পাতাগুলো এন্টি অক্সিজেন হিসেবেও কাজ করে। এরা ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।  

ধর্মীয় পদ্ধতিতে সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়

রোগা থেকে সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেক ধরনের উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। এখন জানাবো ধর্মীয় পদ্ধতিতে মোটা হওয়ার সম্পর্কে বলা হাদিস। সাধারণত শুকনা হলে আপনার শারীরিক সৌন্দর্য ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের উজ্জ্বলতা থাকে না। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে মোটা হওয়ার সুবিধা বা কিভাবে মোটা হওয়া যায় এ ব্যাপারে চলুন কিছু হাদিস জেনে আসি।

ধর্মীয় পদ্ধতিতে সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়

প্রথম হাদিসঃ

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর সাথে যখন তাঁর যখন বিয়ের ব্যবস্থা হচ্ছিল তখন তার মা তাকে নবীজির কাছে পাঠানোর আগে স্বাস্থ্যবতী করে পাঠাতে চেয়েছিলেন। যেহেতু তিনি অনেক রোগা ছিলেন তাই তাকে খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেতে দেওয়া হত। এবং তিনি উত্তম ফল পেয়েছিলেন। এই হাদিসটি সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বরঃ ৩৯০৩ থেকে উল্লেখিত।

দ্বিতীয় হাদিসঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) বলেছিলেন যে তিনি নবীজিকে খেজুর এবং শসা একত্রে খেতে দেখেছেন। এই হাদীসটি সহি ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৫ থেকে বর্ণিত।

মহিলাদের সাত দিনে মোটা হওয়ার হওয়ার কারণ

মোটা হওয়ার জন্য রোগা মেয়েরা সাধারণত অনেক ধরনের ডায়েট বা নিয়ম কানুন ফলো করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যেসব মেয়েরা মা হয়েছেন তারা খুব তাড়াতাড়ি মোটা হয়ে যাচ্ছেন। এর কারণ হচ্ছে হঠাৎ করে লাইফ স্টাইলের পরিবর্তন। 

সাধারণত বাচ্চা হওয়ার আগে মেয়েরা এক ধরনের লাইফস্টাইল এরমধ্যে জীবন পার করে থাকেন। কিন্তু বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চাদের যত্ন করার জন্য বা বাচ্চা রাতে না ঘুমানোর জন্য সবসময় বাচ্চার পেছনেই থাকা লাগে যার কারণে বেশিরভাগ মেয়েরাই অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। তারা আর আগের ওজনের ফিরে যেতে পারেন না। 

তবে সমীক্ষায় দেখা যায় যে বাচ্চা হওয়ার দুই থেকে আড়াই বছর পর বাচ্চা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে প্রেসার কম পড়ে তাই এ সময় অনেক মেয়েরাই চেষ্টা করে তাদের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলে। তাই বাচ্চা হওয়ার পরপরই খুব দ্রুত ওজন কমানোর কোন প্রয়োজন নেই। বরং ধীরে সুস্থে সঠিক লাইফ স্টাইল মেন্টেন করে আস্তে আস্তে ওজন কমানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

দ্রুত মোটা হওয়ার উপায় খোঁজার জন্য সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক গ্রুপ রয়েছে যেগুলোতে জয়েন করলে দেখা যায় ওখানে দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য অনেক ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব পরামর্শ গুলো আপনি আপনার প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ব্যবহার করলে কার্যকারিতা পেতে পারেন।

এছাড়াও নিজের সংগ্রহে কিছু বইপত্র রাখতে পারেন যেগুলো দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য লেখা হয়েছে। সেসব বই পড়েও আপনি নিজ উদ্যোগে মোটা হওয়ার সমাধান বের করতে পারবেন। আর এই বইগুলো আপনাকে মোটিভেটেড করবে সুস্থ সুন্দর স্বাস্থ্যকর ও তথ্যভিত্তিক জীবন যাপন করার সুবিধার্থে। 

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় বিষয়ে আরো কিছু প্রশ্ন

প্রশ্নঃ মানুষ বিয়ের পর মোটা হয় কেন?

উত্তরঃ বিয়ের পর মানুষ মোটা হয় এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। হতে পারে যারা মোটা হচ্ছেন তারা আগের মতো স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল ফলো করছেন না। আবার বিয়ের পর অনেক দাওয়াতে যাওয়ার প্রয়োজন বলে প্রচুর রিচ ফুড খেতে হয় এ কারণেও বেশিরভাগ মানুষ মোটা হয়ে যান।

প্রশ্নঃ ব্যায়াম করলে কি মোটা হওয়া যায়?

উত্তরঃ ব্যায়াম করে মোটা হওয়া যায়। তবে অবশ্যই বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। স্বাস্থ্যকর ডায়েট ফলো করে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে। আর ব্যায়াম করে যেমন ওজন কমানো যায় তেমনি ওজন বাড়ানো সম্ভব।

প্রশ্নঃ বেশি ঘুমালে কি ওজন বাড়ে?

উত্তরঃ হ্যাঁ বেশি ঘুমিয়ে ওজন বাড়ানো সম্ভব। ঘুম ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়।

প্রশ্নঃ মানসিক যন্ত্রণা বা টেনশন কি ওজন কমানোর কারণ?

উত্তরঃ ওজন বাড়াতে হলে যদি এর আগে মানসিক সমস্যার মধ্যে থাকেন তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সমস্যার সমাধান করে তবেই ওজন বাড়াতে পারবেন। 

সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় বিষয়ে লেখক এর মন্তব্য

সাত দিনে মোটা হওয়ার পদ্ধতি বিষয়ে আমরা উপরে আর্টিকেলে আলোচনা করলাম। শুকনো শরীর অনেকের কাছে অপ্রীতিকর। মোটা হওয়া যেমন কষ্টের তেমনি অতিরিক্ত শুকনা থাকাও অনেক সমস্যার। নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই এ বিষয়ে সাবধান থাকা জরুরী।

স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা আপনার শারীরিক উন্নতি এবং সুস্থ থাকার জন্য খুবই কার্যকর। এতে আপনাকে দেখতেও প্রাণবন্ত লাগবে এবং আপনি মানসিকভাবেও খুশি থাকবেন। তাই নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার স্বার্থে কিভাবে খুব তাড়াতাড়ি মোটা হওয়া যায় এ বিষয়ে আমরা আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 2024112

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url