দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় - ঘন ঘন পাদ আসে কেন

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় জানতে অনেকেই আগ্রহী হয়ে থাকেন। কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধা দেয় এর অস্বাভাবিক গন্ধ এবং শব্দের কারণে। তাই ঘনঘন পাদ আসে কেন এ সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। 

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায়

ঘন ঘন পাদ আসে কেন এবং কিভাবে দুর্গন্ধ যুক্ত পাপ থেকে বাঁচবেন এ ব্যাপারে অনেকে অনেক ধরনের ধারণা দিয়ে থাকেন। আজকে আমরা আপনাকে বেশ কয়েক ধরনের উপায় ও কারণ সম্পর্কে আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পেজ সূচিপত্রঃ দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায়

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় 

দুর্গন্ধযুক্ত পাপ থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আজ আমরা আলোচনা করব। খাবার আমরা খেয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করায়। এবং সেটা অন্ত্রে গিয়ে খাবার থেকে পুষ্টি বের হয় যেটা আমরা শরীরে সংরক্ষণ করি এবং বাকি অংশ মলদার দিয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের খাদ্যগুলো যখন অন্ত্রে প্রবেশ করে তখন ব্যাকটেরিয়া মূলত এসে খাবার থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 

কিন্তু কিছু খাবার যেগুলো ব্যাকটেরিয়া বেশি প্রভাব বিস্তার করে ওই খাবার গুলোর উপর আর ঠিক তখনই পেটের ভিতর গ্যাস তৈরি হয়। তবেই ব্যাকটেরিয়া গুলো ক্ষতির কারণ নয়। এগুলাই আমাদের হজমে সাহায্য করে। পরবর্তীতে এই গ্যাস-ই পাদ আকারে আমাদের শরীর থেকে বের হয়। তাই পাদ খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই।

তবে দুর্গন্ধযুক্ত পাদ আমাদের শরীরের ক্ষতি করে। তাই দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় আমরা খুঁজে থাকি। নিচে এ বিষয়েই বর্ণনা করা হলো। 

  • দুর্গন্ধযুক্ত পাদ বেশি হলে অবশ্যই আপনার খাবার দাবার নিয়ে সচেতন থাকা জরুরী। এ সময় খাবার চেষ্টা করবেন। ভারী খাবার খাবেন না। প্রতিদিন সকালে অবশ্যই পেট পরিষ্কার করা জাতীয় খাবার যেমন ইসুবগুলের ভুষি খাবেন। 
  • দুর্গন্ধযুক্ত পাদ হওয়ার প্রথম কারণ আপনার নিয়মিত পায়খানা না হওয়া। আপনার মলদ্বার নিয়মিত পরিষ্কার না থাকলে অবশ্যই মালগুলো জমে সেটা খারাপ গন্ধযুক্ত গ্যাসে পরিণত হবে। তাই চেষ্টা করবেন প্রতিদিন সকালে মল পরিস্কার করার। 
  • খাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন চিবিয়ে চিবিয়ে খাবারটা শেষ করার।
  • খাওয়ার সময় অমনোযোগী না হয়ে খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখবেন। 
  • মলত্যাগের সমস্যা হয় এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। 
  • পায়খানা যদি এক সপ্তাহর বেশি সময় না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন। অথবা পেট পরিষ্কার করার কিছু খাবার বা আয়ুর্বেদি গাছপালা যেগুলো আপনার পেটে আরাম দিবে সেগুলো সকালে খেতে পারেন।
  • প্রতিদিন বেশি করে পানি খাবেন। 

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ ছাড়াও আমাদের অনেকের ঘনঘন পাদ আসে। এটা খুবই বিরক্তিকর একটি অবস্থা। একে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। 

  • যখন খাবার খেতে বসবেন অবশ্যই তখন খাবার এর শুরুতে পানি খেয়ে নিবেন। 
  • খুব ধীর স্থির ভাবে খাবারটি শেষ করবেন। তাড়াহুড়া করবেন না। 
  • ভালোভাবে চিবিয়ে চিবিয়ে খাবার খাবেন। 
  • খাবার খাওয়ার মাঝে পানি খাবেন না। খাবার খাওয়ার আগে পানি খেয়ে নিবেন এবং খাবার শেষ করার পর আধাঘন্টা পরে পানি খাবেন। কারণ খাবারের মাঝে পানি পান করলে ডাইজেসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। 
  • সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বা এ ধরনের সমস্যা হলে আপনার দুর্গন্ধযুক্ত পাদ বা ঘন ঘন পাদ আছে। তাই এমন খাবার দাবার নির্বাচন করুন যেন সেগুলো পাতলা হয় এবং আপনার শরীরে ডাইডেশন করতে দ্রুত সাহায্য করে। 
  • গ্যাসের সমস্যা থাকলে অবশ্যই খাবার আগে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা আধাঘন্টা আগে খেতে হবে। 
  • এবং শেষ পর্যন্ত বলা যায় যে অনেকেই পাদ আসলে পাদ চেপে রাখেন। কিন্তু এটা খুবই খারাপ অভ্যাস পাদ চেপে রাখা কখনো যাবেনা। এতে আরো বেশি পেটের সমস্যা হবে। এবং আপনাকে আরো অসুস্থ করে তুলবে। তাই পরিমিত খাবার এবং পরিমিত নিদ্রা শরীরের খারাপ গ্যাস  সেগুলোকে  মুক্ত করতে সাহায্য করে।

এসব নিয়মগুলো যদি আপনি নিয়মিত পালন করতে পারেন তবে অবশ্যই আপনার দুর্গন্ধযুক্ত পাদ বা ঘন ঘন পাদ আসার সমস্যা দূর হবে। আপনার পেট পরিষ্কার থাকলে আপনি অনেক হালকা অনুভব করবেন। শরীর খারাপ করবে না। সুস্থ থাকবেন। আর এইসব উপায়গুলো মেনে না চললে পরবর্তীতে গ্যাস যা পরবর্তীতে পাদ এ পরিণত হয় সেগুলো গ্যাস আকারে শরীরের নানা ক্ষতি করতে পারে।

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ কি 

পাদ এক ধরনের গ্যাস যার শরীরে জমা হয় এবং অন্ত্রে এর উৎপত্তি। এটি খুবই সাধারণ একটি প্রক্রিয়া এবং এটা বিষয়ে চিন্তার কিছু নেই। সরাসরি পাপ থেকে কোন সমস্যা মানুষের শরীরে হয় না। কিন্তু হওয়ার কারণ কোন ধরনের অসুখের লক্ষণ হিসেবেও হয়ে থাকে।

পাদের বিভিন্ন কারণ রয়েছে তবে এটা খুবই একটি সাধারন একটি প্রক্রিয়া। কোন ব্যক্তির যদি গ্যাস তৈরিও না হয় বা পাদ না হয় তবে এটাও একটা চিন্তার বিষয়। অনেকের অনেক খাবারে অনেক রকম এলার্জি রয়েছে তারা প্রথমে এই এলার্জি টা ধরতে পারেন না। তখন উপসর্গ হিসেবে এর মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে এই সমস্যাটা হয়েছে। সাথে কোনো কারণে ডায়রিয়া হলেও পাদে দুর্গন্ধ হয়।

গ্যাস হওয়া বা পেট ফাঁপা হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমনঃ 

খাবারের কারণে পেট ফাঁপাঃ কিছু খাবার যেমন ফুলকপি ডিম মটরশুঁটি ব্রুকলি এসব খাবারের জন্য পেট চেপে থাকে। 

ওষুধের কারণে পেট ফাঁপাঃ এন্টিবায়োটি জাতীয় ওষুধের জন্য পেট ফাঁপে। এ কারণে এন্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে অবশ্যই গ্যাসের ওষুধ খেতে হয়। 

স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে পেট ফাঁপাঃ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকার কারণে হতে পারে। যেমন বাওয়েল সিনড্রোম এর জন্য পেট ফেঁপে যায়।

পাদ অনেক গ্যাসের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। সব পাদ দুর্গন্ধযুক্ত নয়। সাধারণত বেশ কিছু ধরনের খাবার রয়েছে যেগুলোতে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকে। সেসব মূলত পাদ এ গন্ধ হয়। পাদের গ্যাস গুলির বেশ কিছু কারণে দুর্গন্ধ হওয়া নির্ভর করে। 

  • খাওয়ার সময় কতটা গ্যাস ত্যাগ করা হচ্ছে। 
  • অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক বিক্রিয়া কতটা হচ্ছে। 
  • একজন মানুষ কি কি খাচ্ছেন।

যেসব খাবারের কারণে পাদ দুর্গন্ধ যুক্ত হতে পারে 

পাদ শরীরের খুবই সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। দুর্গন্ধযুক্ত পা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আমরা সবসময়ই ব্যাকুল হয়ে থাকে। কারণ দুর্গন্ধযুক্ত বাদ শরীরের জন্য যেমন খারাপ এই পাদের কারণে সৃষ্ট অস্বস্তিকর পরিবেশ ও আপনার সমস্যার কারণ হতে পারে। এমনকি ঘনঘন পাদ আসে কেন সে ব্যাপারেও আমরা অনেকে চিন্তিত হয়ে পরি।

যেসব খাবারের কারণে পাদ দুর্গন্ধ যুক্ত হতে পারে

মূলত পাঠ শরীরের একটি খুবই সাধারণ প্রক্রিয়া। আমরা যেসব খাবার খাই সেই খাবারগুলো পরবর্তীতে অন্ত্রে প্রবেশ করে এবং সেই খাবার থেকে আমাদের শরীরের থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলো রস সংগ্রহ করে এবং বাকি অবশিষ্ট অংশগুলো মলদ্বারের মাধ্যমে পায়খানা হিসেবে বের করে দেয়। 

কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় অনেক খাবার আছে যেগুলো সহজে হজম হয় না গুলো খাবারগুলোকে ভাঙতে করতে অক্ষম হয়ে যায়।সেই সময় শরীরের ভেতর গ্যাস তৈরি হয়। আর এ কারণেই অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণে পরবর্তীতে গন্ধযুক্ত পাদ বের হয়। 

দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘনঘন পাদ হওয়ার আসল কারণ হচ্ছে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ও কিছু খাবার যেগুলো এই সমস্যা বেশি তৈরি করে। তাই নিচে আমরা এখন বর্ণনা করবো যেসব খাবারের কারণে পাদ দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 

  • দুধ মানুষের শরীরে গ্যাস তৈরি করতে খুবই বেশি কাজ করে। দূর থেকে শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে দুধ খাওয়া যাবে না তানা কিন্তু পরিমিত পর্যায়ে দুধ খেতে হবে। তবে দুধে যদি অ্যালার্জি থাকে তবে অবশ্যই দুধ খাওয়ার ঠিক হবে না। 
  • অনেক ডাক্তার বলেন যে গমের কারণেও শরীরে গ্যাস বেড়ে যায়। গমের গ্লুটেন থেকে এই সমস্যা দেখা দেয়। 
  • বাঁধাকপি অনেকে পছন্দ করেন না। বাঁধাকপির গন্ধ অনেকে নিতে পারেন না। বাঁধাকপিতে থাকা ফাইবার অনেকে পারেন না এ কারণে খেতে সমস্যা হয়। তাই যাদের বাঁধাকপি খেতে সমস্যা হয় তাদের না খাওয়াই উচিত। বিশেষ করে তাদের যদি গ্যাসের সমস্যা থাকে তবে অবশ্যই তা বাদ দেওয়া জরুরী। 
  • রেডমেট খুবই ভারী একটি খাবার। খুব বেশি রেডমিট খাওয়া ঠিক না। গরুর মাংস বা ছাগলের মাংস বা অন্য কোন প্রাণীর মাংস খাওয়ার বেলায় অবশ্যই সাবধান থাকা জরুরি। কারণ এসব মাঘে প্রচুর ফ্যাট থাকে। আর এইসব ফ্যাট সহজে হজম হতে চায় না। তাই তখনই গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। 
  • অনেকের শাক খেলেও সমস্যা হয়। সাক্ষী একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও শাকের ফাইবারে কিছু মানুষের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। পেট ফেঁপে যায়। এভাবেই গ্যাস তৈরি হয়। তাই শাক খেলে যদি কোন ধরনের সমস্যা হয় তবে শাক না খাওয়াই ভালো। এতে আপনি সুস্থ থাকবেন। 
  • অনেকে ধূমপান করে থাকেন। ধূমপানের কারণে বাতাস করে। এই অতিরিক্ত বাতাস শরীরের জন্য খারাপ অনেকের দুর্গন্ধযুক্ত পাদ হয়ে থাকে। 
  • অনেকের বোতল জাত ঠান্ডা পানীয় বাস সোডা বা কার্বনেট জাতীয় পানীয় বেশি খান। মনে করেন তারা যে খাবারের পর এগুলো খেলে কজন তাড়াতাড়ি হবে। তাই বেশি করে খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এগুলোতেই বরং ডাইজেসনে সমস্যা হয়। 
  • যারা বেশি চুইংগাম খান তাদেরও কষ্ট কাঠিন্য জনিত সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই চুইংগাম খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবধানে থাকবেন। 
  • ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার গ্যাস তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ভাজাপোড়া তো এমনিতেও শরীরের জন্য ভালো নয় তাই এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারলে শরীর ও সুস্থ থাকবে গ্যাসের সমস্যাও হবে না। 
  • অনেকের লবণ অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তরকারিতে বেশি লবণ দিলেও পরবর্তীতে আবার লবণ দেন কাঁচা লবণ খেয়ে থাকেন। এমনিতেই তরকারিতে খুব বেশি লবণ দেওয়া ঠিক না আর কাঁচা লবণ খাওয়া আরো বেশি ক্ষতিকর। 
  • পেঁয়াজ বা রসুন জাতীয় খাবারের গ্যাসের সমস্যা বেশি হয়। কারণ পেঁয়াজ বা রসুন এ উচ্চমাত্রায় সালফার থাকে। যার শরীরে গ্যাসের জন্য অথবা গন্ধযুক্ত পাদ তৈরিতে বেশি কাজ করে। 
  • রাতে শাকসবজি বা ডাল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। কারণ রাতের বেলা হাঁটাচলা কম হওয়ার কারণে আবার গুলো কি করতে বেশি কার্যকর। 
  • রাস্তায় বা রেস্টুরেন্টে বিক্রি হওয়া ফাস্টফুড খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। 
  • যাদের চা কফি অভ্যাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গন্ধযুক্ত পাদ বের হওয়ার পরিমাণ বেশি। তাই কমিয়ে দিতে হবে এবং দিনে দুই কাপের বেশি চাপা কফি খাওয়া উচিত না। 
  • বাদাম একটি প্রোটিন জাতীয় খাবার। বাদাম বেশি খেলেও গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায়। চিনা বাদামে বেশি গ্যাস থাকে। তাই বাদাম খাওয়ার সময় খুব ভেবেচিন্তে পরিমাণে খেতে হবে। 
  • যাদের নেশা জাতীয় পানীয় খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাদের অবশ্যই এগুলো খাওয়া বন্ধ করা জরুরী। ইটির শরীরের জন্য যেমন খারাপ তেমনি গ্যাস তৈরিতেও এটি খুবই ভূমিকা পালন করে।
  • শরীরে পানির অভাব থাকলেও পেট ফুলে যায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া খুবই জরুরী। এতে শরীরে পানির অভাব দূর হবে এবং পানি খেলে হজমের সমস্যাও দূর হয়ে যাবে। এবং অবশ্যই খাওয়ার সময় খেতে হবে। এর সাথে যদি লেবু যুক্ত করতে পারেন তবে আরো বেশি কাজ করবে।

গন্ধ যুক্ত পাদের উপসর্গ 

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় জানতে আমাদের আগে জানতে হবে পাদ হওয়ার কারণ কি। দুর্গন্ধযুক্ত পাদ বা পেট ফাঁপা বা গ্যাস হওয়ার বিশেষ কোনো কারণ নেই তবে কোন না কোন সময় এটা বিশেষ ধরনের রোগের একটি উপসর্গ হিসেবে কাজ করে। দুর্গন্ধযুক্ত পাদ হওয়ার আসল বা সাধারণ যে সমস্যা গুলো চোখে পড়ে সেগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে খাবার ও ওষুধ। 

খাবারের সাথে সম্পর্ককৃত কারণগুলো বিষয়ে  আমরা আলোচনা করে ফেলেছি। তবুও বলা যায় যে খাবারের প্রতি সঠিক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খেলে খাওয়ার পর বেশ কিছু ধরনের খাদ্যে গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। যেসব খাবারের উচ্চ ফাইবার ল্যাক্টোজেন বা সালফার জাতীয় উপাদান রয়েছে সেগুলো খেলে ক্যাশ এর প্রভাব বেশি দেখা দেয়। 

ওষুধের সাথে সম্পর্ককৃত কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলোঃ

অ্যান্টিবায়োটিকঃ এন্টিবায়োটি খেলে অন্ত্রের সাধারণ যে ব্যাকটেরিয়া গুলো রয়েছে তা মারা যেতে পারে। আর এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মূলত আবার হজম করতে সাহায্য করে। আর ব্যাকটেরিয়ার অভাবে গ্যাস তৈরি হয় যা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে।

আন্টি ডিপ্রেসেন্টঃ এন্টি ডিপ্রেশেন্ট গুলি পেটে গ্যাস করতে সাহায্য করে। যারা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে অ্যান্টি ডিপ্রেশেন্ট নিয়ে থাকেন তারা অবশ্যই গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে নিবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যঃ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে মলদা দিয়ে গ্যাস বের হয় যা দুর্গন্ধযুক্ত পাদ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। 

ব্যাকটেরিয়াঃ ব্যাকটেরিয়া বেড়ে গেলে বা সংক্রমণ দেখা দিলে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। 

মলাসয়ে ক্যান্সারঃ মলাশয় এর ক্যান্সারের জন্য বলদার দিয়ে এমনি গ্যাস বেরিয়ে যায়। আর এ কারণে এই সব গ্যাস আরো বেশি দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 

এসব ছাড়াও যদি আপনার গ্যাস বা পাদ এর সমস্যা বেশি দেখা দেয় এবং সাথে সাথে যদি অন্য সমস্যাও আপনি দেখেন যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া অথবা ওজন কমে যাওয়া তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী।

দুর্গন্ধ যুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ পাদ কিভাবে তৈরি হয়?

উত্তরঃ মূলত শরীরের অন্তরে যে গ্যাস তৈরি হয় তা পরবর্তীতে পাদ আকারে বের হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ পাদ কি ক্ষতিকার?

উত্তরঃ না পাদ মানুষের শরীরের খুবই সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। 

প্রশ্নঃ দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তরঃ অবশ্যই খাবার এবং ওষুধ বুঝে শুনে খাবেন। 

প্রশ্নঃ পাদ থেকে বাঁচতে কি কোন ঘরোয়া ওষুধ রয়েছে? 

উত্তরঃ পাদ থেকে বাঁচতে অনেক ঘরোয়া টোটকা আমরা উপরে শেয়ার করেছি।

দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে বাঁচার কিছু ঘরোয়া উপায় 

দুর্গন্ধযুক্ত পা থেকে মুক্তির উপায় আমরা বিভিন্ন ভাবেই পেলাম। কিন্তু যদি দুর্গন্ধযুক্ত পাদ বের হওয়া শুরু করে তবে আমাদের কি কি ধরনের করণীয় রয়েছে সে ব্যাপারে আমরা অনেকেই সন্ধিহান থাকি। আমরা বুঝতে পারি না আমাদের কি করা উচিত। শুরুতেই আমরা ওষুধ খেয়ে ফেলি। 

কিন্তু ওষুধ ছাড়াও বেশকিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো পালন করলে বা খেলে এই দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অথবা ঘনঘন পাদ আসে না। এই ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কেই আমরা এখন নিচে আলোচনা করব।

  • গ্যাস যদি হয়ে যায় বা দুর্গন্ধ যুক্ত গ্যাস যদি বের হয় তবে অবশ্যই আপনাকে পানি গরম করে অবশ্যই টকবগীয়ে গরম করতে হবে। এরপর নরমাল টেম্পারেচার এনে ওই গরম পানিটা খেতে হবে। 
  • হালকা আছে পানি গরম করে ওই পানিতে ১ ইঞ্চি লম্বা তিন টুকরা আদা, এক টুকরা কাঁচা হল, এক চিমটি মৌরি,  পাঁচটি ধনে বিজ, পাঁচ ফো কেওড়া জল মিশিয়ে মিশ্রনটি ৫ মিনিটের জন্য গরম করতে হবে। এবং সেটা পরে চুলা থেকে নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করে খেতে হবে। 
  • আসলে পানিতে দুইটি টি প্যাক জ্বালিয়ে তিন মিনিটের জন্য জাল করতে হবে। পরে এটা আস্তে আস্তে খেয়ে ফেলবেন। 
  • এছাড়াও টিব্য্যাক মিশিয়ে তাতে দুই চিমটি পরিমাণ পেপার মিন্ট যুক্ত করে এডমিট জাল দিতে হবে। এরপর খেতে হবে সাথে আপনি প্রয়োজন মত চিনিও মিশিয়ে নিতে পারেন। 
  • আপনি যদি নিয়মিত মৌরি খান তবে আপনার পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারণ মৌরি আপনার ডাইডেশনের যে পেশিগুলো রয়েছে তাদের সঞ্চালনে সাহায্য করে। এর কারণে খেলা বা বদ হজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। এজন্য শুধু মৌরি না খেয়ে মৌরি ভেজে সেটা সি সি তে রেখে দিলে প্রতিদিন গরম পানিতে গুলিয়ে খেতে পারেন। এতে খুবই দ্রুত সমাধান হয়। 
  • হজমের সমস্যা হলে অবশ্যই লেবু খাবেন। লেবু হজম শক্তি বাড়ায় সাথে পেট পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। তাই যদি কখনো এক থেকে তিন দিনের মধ্যে পায়খানা না হয় তবে একগ্লাস লেবুর রস খাবেন। এতে অনেক ভালো কাজ দেয়। এক গ্লাস গরম পানিতে এবুর রস মিশিয়ে খেলে আরো বেশি কাজ হয়। 
  • রেড়ির তেল হজমের জন্য বা গ্যাস তৈরি হওয়া থেকে দূর রাখতে খুবই সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনই সকালবেলা এক থেকে দুই চামচ এই তেল খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। 
  • মধু খুবই উপকারী একটি খাবার। যা খেলে অনেক ধরনের সমস্যা সমাধান হয়। এখানে আপনার দুর্গন্ধযুক্ত পাদ থেকে মুক্তি পেতেও মধু খুব কার্যকরে। প্রতিদিন সকালবেলা যদি আপনি গরম এক গ্লাস পানির সাথে এক চামচ মধু লেবু সহ খেতে পারেন তবে অবশ্যই আপনার পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই পানিটি দিনে তিনবার খান তবে আরও বেশি কাজ করবে। 
  • আঙ্গুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে একটি অনেক উপযোগী এক ফল। কারন আতরে অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে যা বাওয়েল মুভমেন্ট ঠিক রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন যদি আপনি হাফ কাপ আঙ্গুরের রস বা আঙুর খান তবে আপনার পেটের সমস্যা দূর হবে। 
  • তিসির তেলে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার যা পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন তিসির তেল খাওয়া বা বীজ গুড়া করে খেলে আপনার ছাড়াও শরীরের অনেক উপকার হবে। তবে অবশ্যই এক গ্লাস পানিতে এক চামচ তিসির বীজ গলে দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রাখতে হবে। এবং এটা রাতে ঘুমানোর আগে খেতে হবে। 
  • শাক খেলে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে কিন্তু পালং শাক খেলে বরং উল্টা পেটের সমস্যা দূর হয়। তাই যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হয়ে থাকে তবে অবশ্যই রান্না করে পালং শাক খাবেন।
  • আদাতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। যা পেটের সমস্যা বা গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। আদা ছোট ছোট করে কেটে লবণ দিয়ে কাঁচা খেলেও সমস্যা সমাধান হয়। 
  • আপনি ঠান্ডা দুধ খেতে পারেন। যা আপনার গ্যাস্ট্রিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • দারুচিনি হজমের জন্য খুবই কার্যকর। এক গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো যদি আপনি ফোটান ২ মিনিটের জন্য এবং সেটা পড়ে খেলে হজমের সমস্যা দূর হয়ে যায়। 
  • জিরা তুমি পাতলা পায়খানা বা পেটের সমস্যার জন্য খুবই উপকারী। আপনার জ্বর হলেও আপনি ইরা গুড়া আখের গুড়ের সাথে মিশিয়ে বড়ি বানিয়ে খেতে পারেন। 
  • আপনার গ্যাসের সমস্যা হলে যদি দুই তিনটা লবঙ্গ মুখে চুষতে পারেন তবে আপনার বা বুক জ্বালা বা বমি ভাব দূর হয়ে যাবে। 
  • লবঙ্গের মতো এলাচু আপনি যদি গুঁড়ো করে খান তবে তাতেও সমাধান পাবেন।

পাদ আসার কারন কি 

দুর্গন্ধযুক্ত পা থেকে মুক্তির উপায় জানতে আমরা সকলেই আগ্রহী থাকি। কিন্তু আমরা এটা সবাই জানি না যে দুর্গন্ধযুক্ত পাদ হওয়ার কারণ কি। কারণ সব সময় পাদ দুর্গন্ধযুক্ত হয় না। আবার কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাদ সব সময়ই দুর্গন্ধযুক্ত। মূলত নির্ভর করে ব্যাকটেরিয়ার উপর। 

পাদ আসার কারন কি

আমরা যা খাই তা সবই অন্রপ্রবেশ করে এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ওই খাবার থেকে পুষ্টি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট অংশ আমরা পায়খানা হিসেবে বের করে দিই। কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া একেকজনের শরীরে এক এক রকম ধরনের হয়ে থাকে। মূলত এই ব্যাকটেরিয়ার রকম ফেরের জন্যই সব মানুষের পাদ দুর্গন্ধযুক্ত হয় না।

পাদের কারণে মাথাব্যথা 

দুর্গন্ধযুক্ত পা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আমরা আলোচনা করলাম। কিন্তু আমাদের অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা আছে এ বিষয়ে যে আমাদের যে মাথা ব্যথা করে এটার কারণও গ্যাসের সমস্যা। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে গ্যাসের সমস্যা কখনোই পেট এবং বুকের উপরে উঠতে পারে না। 

অবশ্যই যাদের মাথা ব্যথা করে কোন রোগের কারণেই এই সমস্যাটা দেখা দিচ্ছে। এবং প্রয়োজনের সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।

গন্ধ যুক্ত পাদ থেকে বাঁচতে ওষুধ

পাদের গন্ধ দূর করার জন্য বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে। আমরা পাদের দুর্গন্ধ গুলো দূর করার জন্য অনেক ঘরোয়া উপায় জেনেছি। এবং এলোপ্যাথি উপায়ে কি কি ধরনের ওষুধ রয়েছে আমরা এখন তা জানবো। ওষুধগুলো হচ্ছে। 

  • galactosidase
  • alpha-galactosidase
  • tegaserod maleate (Zelnorm)

মজার বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সের একজন আবিষ্কারক একটি ওষুধ তৈরি করেন যা তাদের গন্ধ কে পরিবর্তন করে সুগন্ধে রূপান্তর করে। এবং এই ওষুধটি খেলে আপনার পাদের গন্ধ চকলেট ফ্লেভারের হয়ে যাবে। আর অনেক মজার যে বিষয় সেটা হচ্ছে এই ওষুধটি বিভিন্ন ধরনের পশুকে খাওয়ানো হয় এতে তাদের পাদের যে বাজে গন্ধ তা আর বাজে লাগেনা। এছাড়া এই ওষুধের অনেক ধরনের ফ্লেবার ও রয়েছে।যেমন গোলাপ স্ট্রবেরি কমলা ইত্যাদি।

দুর্গন্ধ যুক্ত পাদ কেন আসে সে বিষয়ে প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ পাদ থেকে বাঁচতে কি কোন এন্টিবায়োটিক রয়েছে?

উত্তরঃ পাদ থেকে বাঁচার বেশ কয়েক ধরনের এন্টিবায়োটিক রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে। 

প্রশ্নঃ পাদের সমস্যার কারণে কি মাথা ব্যথা হয়? 

উত্তরঃ না তাদের সমস্যার কারণে মাথা ব্যথা হয় না। আমরা উপরে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। 

প্রশ্নঃ খুব বেশি চা-কফি খেলে কি তাদের সমস্যা হয়?

উত্তরঃ চা কফি অবশ্যই গ্যাস এর সমস্যার একটি কারণ। তাই পরিমিত পরিমাণে চা-কফি খাওয়া জরুরী। 

প্রশ্নঃ ডায়েট করলে কি গ্যাসের সমস্যা হয়? 

উত্তরঃ না ডায়েট করলে গ্যাসের সমস্যা হয় না। তবে অবশ্যই সেটা ডাক্তারের পরামর্শ মত ডায়েট হতে হবে।

দুর্গন্ধ যুক্ত পাদ থেকে মুক্তির উপায় বিষয় লেখকের মন্তব্য

দুর্গন্ধযুক্ত পাত থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা জানলাম। পাত খুবই স্বাভাবিক একটি শারীরিক কার্যক্রম। কিন্তু বেশ কিছু কারণে এটার পরিমাণ খুব বেশি হয়ে গেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার একটি সকলের সামনে বের হয়ে গেল অনেক লজ্জার একটি পরিচিতি তৈরি হয়। 

ঘনঘন আসে কেন এ ব্যাপারে আমরা অনেকেই চিন্তায় থাকি। আমরা চাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান।তাই উপরে উঠতো আর্টিকেলে আমরা অনেক ধরনের সমাধান দেখিয়েছি। নিশ্চয় আপনারা আমাদেরই সমাধান গুলো পড়ে এবং নিয়ম গুলো পালন করে দুর্গন্ধ ছোট্ট এবং ঘন ঘন পাদ আশা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url