ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে কি করতে হবে নিশ্চিত সমাধান

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে কি করতে হবে তা আমরা অনেকেই জানিনা। এমনকি অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অনেকে চিন্তায় থাকেন যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে করনীয় কি। 

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে কি করতে হবে

বিভিন্ন কারণে আমাদের অজ্ঞানতার জন্য অনেক সময় ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রেস্ট্রিক্টেড অথবা কোন তৃতীয় পক্ষের দ্বারা হ্যাক হয়ে যায়। এই সমস্যাগুলো ঘটলে আমাদের কি করা উচিত এ ব্যাপারে আমরা সহজে কোন ধারনা পাইনা। 

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ

ফেসবুক একাউন্ট রেসট্রিক্টেড হওয়ার কারণ সবাই জানেন না। যার কারণে অ্যাকাউন্ট রেসট্রিক্টেড  হয়ে যায় তবে অনেকেই ঘাবড়ে যান। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার বিষয়ে কোন সমাধানে আসতে পারেন না। এজন্য এ বিষয়ে অবশ্যই আপনার একটা ধারণা থাকা প্রয়োজন। বেশ কিছু কারণে আপনার ফেসবুক রেস্ট্রিক্টেড হতে পারে।  

এই কারণগুলা জানলে ও আপনি সেটা মেনে চললে আপনার ফেসবুকে ফিরে পাবেন ও কখনো রেস্ট্রিক্টেড হবে না। বর্তমান সময়ে ইনকামের অনেক প্রয়োজনীয় একটি মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক।ইনকামের জন্য বেশ কিছু পেজ তৈরি করে থাকেন। এই পেজগুলোতে ফেসবুকে বেশ কিছু নীতিমালা রয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ প্রতি সপ্তাহে 4000 টাকা পর্যন্ত আয় করুন

এই নীতিমালা গুলো ভঙ্গ করলে ফেসবুকের এ আই ডিটেক্টর আপনার ভুলটি ধরে ফেলেন এবং আপনার একাউন্টটি বেশ কিছুদিনের জন্য রেস্ট্রিক্টেড করে ফেলে। আবার আপনি অনেক নীতি যেগুলো ফেসবুক করতে নিষেধ করে সেগুলো যদি ঠিকমতো মেনে না চলেন তাহলে আপনার ফেসবুক একাউন্টটি রেস্ট্রিক্টেড হয়ে যেতে পারে।  

বর্তমান সময়ে এই রেস্ট্রিকশন টি খুবই কমন একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ ফেসবুকের বেশ কিছু নীতিমালার পরিবর্তন হয়েছে। আর এ বিষয়ে আমরা সকলে অবগত না। এটা শুধু ফেসবুক পেজে নয় আপনার পার্সোনাল একাউন্টেও এই নীতি মেনে চলতে হবে। 

ফেসবুকের অনেক দিনের এই রেস্ট্রিকশন পলিসি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াও পেজ বা অ্যাকাউন্টে বাধা আসে। তাই এরকম সমস্যা কেন হচ্ছে এর কারণ বিষয়ে আমাদের জানা উচিত। 

অ্যাড রিজেকশনের সমস্যা

অনেক সময় পেজ থেকে যদি কোন এড এর বিষয়ে রিজেকশন হয় এবং এটি বারবার করতে থাকে তবে ফেসবুক পেজকে এড এর জন্য রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনার পেজে অ্যাড রিজেক্ট কেন হচ্ছে এ কারণ ভালো করে দেখতে হবে। এবং বুঝে ওই এডটি এডিট করে আবার নতুন করে বুস্টিং করে ফেলতে হবে। 

বুস্টিং করতেও যদি সমস্যা হয় তবে ম্যানেজার অ্যাপ থেকে আপনার এড ডিলিট করে ফেলা উচিত এবং একই ধরনের বুস্টিং যেন পরে না করেন এ ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন।  

পেমেন্ট সময় মত না দেওয়া

আপনার পেজের ইনকাম শুরু হয়ে গেলে আপনাকে প্রতিনিয়ত বুস্টের জন্য পেমেন্ট করতে হয়। কিন্তু আপনি চালাকি করে মাঝে মাঝে পেমেন্টটা ডিউ করে রাখেন। ডিউ করে আবার পুনরায় অন্য একাউন্ট থেকে বুস্টিং শুরু করেন। 

এবং এই কাজটি বারবার করতে থাকেন। এক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যাপারটা বুঝতে পারে। আর প্রতিবার পেমেন্ট ডিউ করে রাখার জন্য আপনার পেজটিকে অ্যাডভার্টাইজিং রেসট্রিক্টেড করে দিবে।  

অ্যাড একাউন্ট ফ্ল্যাগ হয়ে যাওয়া

এড বুস্ট করতে গিয়ে যদি প্রতিবার আপনার অ্যাকাউন্টটি ফ্ল্যাগ হয়ে যায় তাহলে আপনার একাউন্টটি কে ফেসবুক এড রেস্ট্রিক্টেড  করে দিতে পারে।

ফেক আইডি এডমিন থাকলে রেস্ট্রিকশন

আপনার পেজে যদি একের অধিক ফেক আইডি এডমিন থাকে এবং ফেসবুক যখন ভেরিফাই করে তখন যদি তা ধরা পড়ে তাহলে ফেসবুক আপনার আইডিটি রেস্ট্রিক্টেড করে দিবে।

অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার

আমরা সকলেই জানি বা অনেকে জানিনা যে অন্যের ছবি বা ভিডিও যদি ডাউনলোড করে তার অনুমতি ছাড়া সেগুলো নিজের ভিডিও বা কনটেন্টে ব্যবহার করি তবে সেটা কপিরাইট ক্লেম এর মধ্যে পড়ে যায়। 

কারণ হোল্ডার যদি কমপ্লেইন করে ফেসবুকের কাছে আর যদি সেটা তদন্ত করে প্রমাণিত হয় যে আপনি কপিরাইট করেছেন তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি রেস্ট্রিকটেড হয়ে যাবে। সাধারণত বুস্টিং এর সময় এই সমস্যাটি ধরা পড়ে। তাই অন্যের পারমিশন ছাড়া তার ভিডিও বা ইমেজ কনটেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। 

সন্দেহজনক কাজকর্ম

ফেসবুক যদি মনে করে যে আপনার অ্যাকাউন্ট এর সাথে আপনার পেমেন্ট মেথড এর ঠিকানা অথবা দেশ অথবা কার্ড হোল্ডারের নাম বা অ্যাকাউন্টের নাম মিল নেই তবে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট ফ্লাগ করে দিতে পারে। 

ফেক কুপন বা ডলার ব্যবহার

অনেক সময় আপনি যখন আপনার পেজের বুস্টিং করান তখন আপনি একটু সাশ্রয়ের জন্য ১০০ টাকার নিচে বুস্টিং করিয়ে নিতে চান। এবং ১০০ টাকার নিচে যারা বুস্টিং করিয়ে দেয় তারা ৯৯% ই ফেক বুস্টার হয়ে থাকে। তারা ফেক ডলার দিয়ে আপনার পেজটি বুস্টিং করে দেয়। 

কিন্তু ফেসবুক যখন তার ভেরিফিকেশন এর সময় দেখে যে আপনার বুস্টিং টি ফেক ছিল তখন ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্টটি রেস্ট্রিকটেড করে দিবে। এজন্য অবশ্যই আপনি যাদের কাছ থেকে বুস্টিং করে নিবেন মাথায় রাখবেন যে বুস্টিং করার আগে ওই বুস্টার অথেন্টিক কিনা। 

তাদের নিজস্ব অফিস আছে কিনা এবং তারা কতদিন ধরে কাজ করছে তাদের পেজ এর পরিবেশ কেমন। সবকিছু দেখে আপনার অবশ্যই স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে হবে। এবং আপনাকে মাথায় রাখতে হবে বুষ্টের জন্য সর্বনিম্ন ১২০ এর নিচে কেউ যদি বুস্ট করে দেয় তবে তারা অবশ্যই ফেক। 

আমব্রেলা বুষ্টিং

এই নিয়মটি ফেসবুক ২০২১ সাল থেকে তৈরি করেছে। ফেসবুক এখন খুব ভালো করে এটা খেয়াল করে বা এরা পলিসি তৈরি করে দিয়েছে যে একটা অ্যাকাউন্ট একটি পেজের বেশি অ্যাড রান করতে পারবে না। বেশি অ্যাড রান করলে অবশ্যই একাউন্টটি হারিয়ে যাবে। 

পেজের পলিসিতে সমস্যা হলে

ফেসবুকের অ্যাড পলিসি রয়েছে। অ্যাড পলিসিতে অনেক ধরনের নিয়ম বিষয়ে বলার আছে। এখানে ফেসবুক বলে দিয়েছে কি কি ধরনের পোস্ট আপনি করতে পারবেন কি কি করতে পারবেন না এবং এ বিষয়ে আপনাকে  সাবধান করে দেওয়া আছে। আপনাকে অবশ্যই এই পলিসি মেনে চলতে হবে। 

তা না হলে আপনার পেজের যদি আপনি পলিসি মেনে না চলেন তবে আপনার পেজটি রান করতে দিবে না। 

এড একাউন্ট চেঞ্জ করে বুস্টিং

অনেকে এড একাউন্ট চেঞ্জ করে বুস্টিং করে কারণ মনে করেন যে এক জায়গায় বা বুষ্টিং যদি ভালো না হয় মনে করেন অন্য জায়গায় গেলে বুস্টিং ভালো হবে। কিন্তু তারা এটা জানেন না যে এটা পলিসি বিরোধী। যে অ্যাড একাউন্ট দিয়ে বুস্টিং করছেন সেখানে আপনাকে থাকতে হবে কারণ পরিবর্তন করলে ফেসবুক এটাকে আনইউজুয়াল activitive হিসেবে ধরে নিবে। এবং বিভিন্ন অ্যাড একাউন্টে আপনার ফেসবুক পেজটি রেস্ট্রিকটেড হয়ে যাবে।  

ফেসবুকে নিজস্ব সমস্যার কারণ

ফেসবুক এটা বলেছেন যে করোনার পরে তাদের বিভিন্ন সমস্যাগুলো সফটওয়্যার নিজেই দেখাশোনা করে। তাই সফটওয়্যার এর ভুলের কারণে অনেক সময় পেজের কোন সমস্যা না থাকলেও পেজ রেস্ট্রিক্টেড হয়ে যায়।

তাই অবশ্যই আপনার একাউন্টটি কেন রেস্ট্রিক্টেড হচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার খুঁজে বের করতে হবে। এবং আপনার সব ধরনের পলিসি মেনে বুঝে এবং মাথায় রেখে আপনার ভিডিও বা কনটেন্টগুলো প্রচার করতে হবে।

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে করণীয়

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমরা জেনেছি কিন্তু আমরা এখনো জানিনা যে রেস্ট্রিক্টেড হলে আমাদের কি করার আছে। বর্তমান যুগের সবচেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ফেসবুক। যাদের ফোন রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই একটি করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। 

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে করণীয়

আমরা অনেকেই ফেসবুক একাউন্টের সাথে সাথে ফেসবুক পেজ ও চালিয়ে থাকে। কিন্তু ফেসবুকে মাঝে মাঝে বেশ কিছু ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যার কারণে আমাদের ফেসবুক পেজ বা একাউন্টের রেস্ট্রিকশন আসতে পারে। বিভিন্ন কারণে ফেসবুক একাউন্টে রেস্ট্রিকশন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন কারণ সহজে বুঝা যায় না। 

আবার ফেসবুক মাঝে মাঝে নিজেই ভেরিফিকেশনের সমস্যা করে তাই ডিটেক্টর এর সমস্যার কারণে ও কোন কারণ ছাড়াও রেস্ট্রিক্টেড হয়ে যায়। তাই ফেসবুক রেস্ট্রিকশন এর ব্যাপার ঘটলে আমাদের কি করণীয় নিচে সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো। 

  • ফেসবুক একাউন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই নিজের অফিসিয়াল যে ডকুমেন্ট সেই অনুযায়ী তথ্য প্রেরণ করার চেষ্টা করুন।যেমন জন্ম নিবন্ধন অথবা এনআইডি কার্ডে থাকা ডকুমেন্ট অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে ব্যবহার করবেন। তাহলে ফেসবুক একাউন্ট যদি হারিয়ে যায় তবে সহজেই বের করতে পারবেন। 
  • সব সময় বুঝে শুনে লাইক কমেন্ট করবেন। খারাপ বা নোংরাও অশ্লীল পোস্টে লাইক বা রিয়েক্ট দিবেন না। কোন পোস্টে মজা করে হলেও কোন ধরনের কমেন্ট বা গালিগালাজ করা যাবে না। কারণ ফেসবুক এগুলো খুব ভালোভাবে ডিটেক্ট করে। 
  • কোন খারাপ ছবি বা পর্নোগ্রাফি অশ্লীল বিষয়ে ছবি বা পোস্ট কাউকে শেয়ার করবেন না বা ফেসবুকেও আপনার একাউন্টে দিবেন না। 
  • মেসেজেও কাউকে পার্সোনালি গালাগালি বা খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো ফেসবুক ডিটেক্ট করে হ্যারেজমেন্ট হিসেবে। 
  • ফেসবুকে কোন লাইক কমেন্ট খুব দ্রুত ১মিনিটের মধ্যে অনেকগুলো লাইক বা কমেন্ট করা যাবেনা। এই বিষয়টি ফেসবুক ভালোভাবে নিতে পারেনা তারা ভাবে আপনার ফেসবুক আইডিটি কোন বট হয়তো ব্যবহার করছে।
  • কোন অপরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ফেসবুক আইডিতে আসতে দিবেন না। আপনার আইডিটি এ কারণে হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
  • কোন অ্যাপ অথবা কোন সাইটের লিংক বারবার পোস্টে বা বিভিন্ন কমেন্টে শেয়ার করবেন না। এটি ফেসবুক স্প্যামিং হিসেবে মামলা করে দেয়। 
  • কোন অপ্রীতিকর ছবি বা রক্তাক্ত বীভৎস ছবি ফেসবুকে শেয়ার করবেন না। অথবা নেশা জাতীয় দ্রব্য এর ছবি ও পোস্ট করা বা বিক্রি করার চেষ্টা করা যাবে না। 
  • এমনকি ফেসবুকের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট করে সেটা শেয়ারও করা যাবে না। এটাও ফেসবুক যদি দেখতে পায় তবে আপনার আইডিটি অবশ্যই হারিয়ে যাবে।  

উপরের নিয়মগুলো মেনে চলা আপনার জন্য খুবই জরুরী। এর সাথে এটাও মাথায় রাখবেন যে আপনি অবশ্যই vpn দিয়ে আপনার ফেসবুক একাউন্টে ব্যবহার করবেন না। এবং অবশ্যই আপনি আর একটি ফোন দিয়ে দুটির বেশি আইডি চালানো যাবেনা। 

আর আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি যদি এরপরও কোন কারণ ছাড়া নষ্ট হয়ে যায় তবে এর জন্য আবেদন করে রাখবেন আর তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আবার নতুন একটি আইডি আপনার খোলা জরুরী। 

তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যদি রেসট্রিক্টেড হয়ে যায় তবে সাধারণত এপ্লাই করলে আপনি এক মাস থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে আপনার একাউন্টে ফিরে পাবেন। কারো ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ আপনি অনেক বেশি নীতিমালা লংঘন করেছেন এ কারণে হয়তো ফেসবুকের বেশি সময় লাগবে আইডি রেস্ট্রিকশন তুলে নেওয়ার জন্য। 

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিকশন বোঝার উপায়

ফেসবুক একাউন্ট রেসট্রিক্টেড হওয়ার কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে আমরা জেনেছি কিন্তু আমাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটে রেস্ট্রিকশন কেন হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের কোন ধারণা সাধারণত থাকে না। 

মূলত সেই রেস্ট্রিকশন হওয়ার কারণ বোঝার জন্য আপনার ফেসবুকে সি রেস্ট্রিকশন অপশনে আপনাকে গিয়ে দেখতে হবে যে আপনার কোন কোন ভুলের কারণে অ্যাকাউন্টটি রেসট্রিক্টেড হয়েছে। আপনার এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে আপনার উচিত আপনার এক মাসের মধ্যে যেন রেজিস্ট্রেশন তুলে দেয় সেটার জন্য অপেক্ষা করা। 

তবে যদি আপনি আরো তাড়াতাড়ি রেস্ট্রিকশন তুলে নিতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে এপ্লাই করতে হবে। আপনার ফিডব্যাক টি পাঠাতে হবে। আর এটা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ঠিকমত দেখে আপনার রেস্ট্রিকশনটি তুলে দিবে। 

  • এ কারণে প্রথমেই আপনাকে ফেসবুকের একটি অফিসিয়াল অ্যাপ রয়েছে সেখানে যেতে হবে। 
  • এরপর থ্রি লাইন এ ক্লিক করতে হবে এবং নিচে আসলে আপনি রিপোর্ট ও প্রবলেম অপশন দেখতে পারবেন। 
  • এখানে প্রবেশ করে কন্টিনিউ টু রিপোর্ট এ প্রবলেম অপশনে আবার ক্লিক করবেন। 
  • এরপর ইনক্লুড এ রিপোর্ট অপশনে যাবেন। 
  • তবে এর আগে আপনার ফেসবুক আপনার যে সমস্যার কারণে রেস্ট্রিকশন দেখাচ্ছে সেটার একটি স্ক্রিনশট নিয়ে রাখবেন। 
  • এবার আবারো ইনক্লুড এ রিপোর্ট অপশনে গিয়ে প্রোফাইল অপশনটি বের করবেন। 
  • এখানে গিয়ে অ্যাড ইমেজ অপশনে আপনি যে স্ক্রিনশটটি নিয়ে রেখেছিলেন তা অ্যাড করবেন।
  • এবং ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার সমস্যাটার কথা অবশ্যই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে লিখে আবেদন করবেন। এবং সেটা ইংরেজিতে লিখতে হবে। 
  • এরপর সেন্ড অপশন এ গিয়ে সেন্ট রিপোর্ট এর ডান দিকে আইকনটি টাচ করে ফেসবুকের কাছে উপস্থাপন করবেন।

ফেসবুক একাউন্টের রেস্ট্রিকশন কি

আমরা অনেকেই জানিনা যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিকশন কি। আমরা প্রত্যেকেই ফেসবুক ব্যবহার করি এবং মাঝে মাঝেই আমরা ফেসবুক বিষয়ক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগি। আপনারা যদি কখনো রেস্ট্রিকশন জনিত জটিলতায় ভুগে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে কেন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রেস্ট্রিক্টেড হয়েছে। 

ফেসবুক রেস্ট্রিকশন বিষয় আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। আসলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার নিয়ম বা নীতিমালা রয়েছে। আর এইসব নিয়ম বা নীতিমালা যদি কোনো কারণে ভঙ্গ হয় তাহলে ফেসবুক এটা যদি ডিটেক্ট করতে পারে তবে ফেসবুক আমাদের এই একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়। এই রেস্ট্রিকশন বিভিন্ন কারণে হতে পারে। 

যেমন কপি পেস্ট এর বিষয়ে রয়েছে সেটাও ফেসবুক ধরতে পারলে ডেসক্রিপশন হয়ে যায়। আবার জেনে না জেনে বেশ কিছু খারাপ পোস্টে আমরা লাইক কমেন্ট করে ফেলি সেসব ক্ষেত্রেও ফেসবুকে রেস্ট্রিকশন চলে আসে। এরকম বেশ অনেক ধরনের সমস্যাই রয়েছে। 

তবে রেস্ট্রিকশন এর এ সমস্যা কিছু সময়ের জন্য হয়ে থাকে। মূলত আপনার এই রেস্ট্রিকশন ৩০ দিনের জন্য হয়। এরপর ফেসবুক অটোমেটিক্যালি আপনার অ্যাকাউন্টটি ফিরিয়ে দিবে। তবে যদি আপনার ফেসবুক একাউন্টের ক্ষতি না করে আপনি স্বাভাবিকভাবে চালাতে চান তবে অবশ্যই আপনার ফেসবুক ব্যবহারের নীতিমালা গুলো সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেই নিয়মগুলা মেনে চলতে হবে।  

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে করণীয় 

আমরা এতক্ষণ ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ বিষয়ে জেনেছি যা অটোমেটিক্যালি রিকভার হয়ে যায়। কিন্তু এখন আমরা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে জানব। এটা খুবই রিস্কি একটা কাজ কারণ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আপনি আপনার একাউন্টে আর নাও পেতে পারেন। 

তবে যদি আপনি সাথে সাথে বুঝতে পারেন যে আপনার একাউন্টে এই মুহূর্তে হ্যাক হয়েছে তবে আপনি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলে আপনার অ্যাকাউন্টটি ফিরে পাওয়া সম্ভব। 

যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয় তবে প্রথমে আপনি আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ডটি রিসেট করে নিবেন। ফেসবুক পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করার জন্য আপনার ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে যেতে হবে অথবা ফেসবুকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। 

এরপর এখানে গিয়ে আপনি আপনার ইমেইল এড্রেস এবং এর নিচে পাসওয়ার্ড লেখার অপশন থাকে আর তার নিচে ফরগট পাসওয়ার্ড নামের যে অপশনটি রয়েছে সেখানে ক্লিক করলে আপনি আপনার পাসওয়ার্ডটি নতুন করে তৈরি করে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি যে মোবাইল নাম্বার অথবা ইমেইল এড্রেসটি দিয়েছিলেন আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় সেই নাম্বারটি ব্যবহার করবেন। 

এবং এভাবে আপনার পাসওয়ার্ড রিসেট হয়ে গেলে আপনি আবারো আপনার ফেসবুকে ইনটার করতে পারবেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কিনা সেটা বুঝতে বুঝতে অনেক সময় চলে যায়। এবং আপনার পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করার সময় আর থাকে না। এই মুহূর্তে আপনার এই বিষয়টি সমাধান করার জন্য যে প্রসেস গুলোর মধ্যে যেতে হবে তা হচ্ছে। 

  • প্রথমে আপনি http://www.facebook.com/hacked এই লিঙ্কে প্রবেশ করবেন। 
  • এরপর মাই একাউন্ট ইজ কম্প্রোমাইজড এই চাপ দিতে হবে। এবং তখন আপনার হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হবে। সাথে আপনাকে ইমেইল অথবা ফোন নাম্বার যেটা দিয়ে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টটি ক্রিয়েট করেছিলেন সেই ইনফরমেশন টা দিবেন। 
  • ইনফরমেশন গুলি সত্য হলে আপনার অ্যাকাউন্টটি শো করবে। এরপর আপনার কাছ থেকে পাসওয়ার্ড চাওয়া হবে আপনি যে পুরাতন পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করতেন সেটাই দিতে হবে।
  • ইমেইল এড্রেস যেটা আপনি দিয়েছেন তা যদি হ্যাকার চেঞ্জ করে ফেলতে না পারে তবে আপনার এই ইমেইল এড্রেস দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
  • আর হ্যাকার যদি ইমেইল এড্রেস ফোন নাম্বার সহ সব ইনফরমেশন চেঞ্জ করে ফেলে তাহলে নিড এনাদার ওয়ে টু অথরাইজেশন এই অপশনে ফেসবুকে ক্লিক করতে হবে। এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করার মাধ্যমে হ্যাকার এর কাছ থেকে আপনার একাউন্টটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।  

এবং এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে আপনি সাইবার পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করবেন। বর্তমানে সাইবার ক্রাইমের জন্য পুলিশ অনেক কাজ করছে। এছাড়া আপনি ০১৭৩০৩৩৬৪৩১ এই নাম্বারেও ফোন দিয়ে অথবা smmcpc2018@gmail.com এই ইমেইল এড্রেস এ ইমেল ও করতে পারবেন। 

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ 

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে আমরা জানলেও ফেসবুক একাউন্ট কেন হ্যাক হয় এ ব্যাপারে আমাদের ধারণাই নেই। ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে হলে নিচের তথ্যগুলো পড়ে দেখতে হবে। 

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ

একসাথে দুই বা ততোধিক অ্যাকাউন্ট খুলে রাখলে

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অনেক ধরনের কারণ রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হচ্ছে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলে রাখা। আমরা যদি একটি ফোন থেকে ফেসবুকের এর জন্য একাধিক অ্যাকাউন্ট ওপেন করে রাখি বা লগইন করে রাখি তবে আমাদের যেকোনো একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

অচেনা অজানা লিংকে ক্লিক করা

আমাদের সামনে অনেক সময় অনেক রকম লিংক চলে আসে আর হ্যাকাররা চেষ্টা করে লিংক দিয়ে এর মাধ্যমে হ্যাক করার। লিংক আসলে অবশ্যই বুঝে শুনে অথবা পরিচিত হলে তবেই লিংকে যাওয়া উচিত। সাধারণত হ্যাক করার প্রধান অ্যাক্সেস ই হচ্ছে এই লিঙ্কে ক্লিক করা।  

জটিল পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আমরা সাধারণত যে পাসওয়ার্ডটা দিই অনেক সময় আমরা অনেক সাধারণ  পাসওয়ার্ড লিখি। কিন্তু আমাদের এমন ধরনের পাসওয়ার্ড তৈরি করা উচিত যেটা অনেক স্ট্রং হয় এবং অনেক আইকন সমৃদ্ধ হয়। কারণ খুব সহজ পাসওয়ার্ড হলে হ্যাকাররা খুব সহজেই আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে ফেলতে পারে। 

অন্য কারো সাথে পাসওয়ার্ড শেয়ার

আমরা অনেক সময় আমাদের পরিচিত বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের কাছে আমাদের পাসওয়ার্ডটি শেয়ার করে ফেলি। কিন্তু এই কাজটা করা একদমই ঠিক না। কারণ যেহেতু ফেসবুকে একটা পারসোনাল একাউন্ট। তাই এর পাসওয়ার্ড টাও পার্সোনাল। আইডি হ্যাক হওয়ার কারণ হিসেবে এই বিষয়টাও দায়ী।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিকশন ও হ্যাক হওয়ার বিষয়ে কিছু প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ ফেসবুক একাউন্ট রেসট্রিক্টেড হলে সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য অফ থাকে? 

উত্তরঃ ফেসবুক একাউন্ট সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য অফ থাকে। 

প্রশ্নঃ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিকশন থেকে বাঁচার উপায় কি? 

উত্তরঃ অবশ্যই ফেসবুকের দেওয়ার নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলতে হবে। 

প্রশ্নঃ কেন ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হয়?

উত্তরঃ বেশ অনেকগুলো কারণেই ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্ট হয়ে যায়। যেমন কপি পেস্টের সমস্যা, খারাপ কোন সাইটে গিয়ে লাইক কমেন্ট করা, অপ্রীতিকর বা গালিগালাজ জাতীয় কথা বা মেসেজ দেওয়া। কোন খারাপ বিষয়ে প্রমোশন করা ইত্যাদি। 

প্রশ্নঃ হ্যাকার ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর কিছু না করলে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আইডিটি হ্যাক হয়েছে?

উত্তরঃ অন্য কেউ বা হ্যাকার যদি লাইক কমেন্ট শেয়ার করে তবে এক্টিভিটি লগে তা লিপিবদ্ধ থাকে। তাই নিয়মিত এক্টিভিটি লগ চেক করতে হবে। 

প্রশ্নঃ আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হলে আপনার করণীয় কি?

উত্তরঃ কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধরনের পোস্ট ফেসবুকে করলে রিপোর্ট এর অপশন রয়েছে। অবশ্যই আপনি সেই পোস্টে রিপোর্ট করে দিবেন।  

প্রশ্নঃ কোন লিংক নিরাপদ কিনা বোঝার উপায় কি?

উত্তরঃ নিরাপদ কোন লিংক https দিয়ে শুরু হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে http দিলেও সেই লিংকটিও নিরাপদ হয় না। আবার অনেক সময় আপনার মেসেঞ্জারে বিভিন্ন রকম লটারি বা বিকাশে টাকা জেতার লোভ দেখিও আপনাকে লিংক দিতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ ফ্রি লটারি খেলে টাকা ইনকাম

ফেসবুক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ জানলাম আমরা কিন্তু আমরা অনেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম বিষয়ে অনেক ভুল করে ফেলি। আবার আমাদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষ রয়েছেন যারা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে ধারণা রাখেন না। তাই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার সহজ উপায় সম্পর্কে নিচে আলোচনা করব।  

  • আপনার ফেসবুক একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপনার ফোন হলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ফেসবুক অ্যাপ টি নামাতে হবে অথবা যদি কম্পিউটারে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে ফেসবুক লিখে সরাসরি সার্চ করতে পারেন। 
  • এই ২টি উপায়ে একাউন্টটি ওপেন করে ক্রিয়েট নিউ একাউন্ট লেখা একটি অপশন পাবেন।
  • এরপর আপনার কাছে একটি অপশন আসবে যেখানে জয়েন ফেসবুক লেখা থাকবে। এখান থেকে আপনি নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন। 
  • এরপর আপনার ফার্স্ট নেম, লাস্ট নেম লিখতে বলবে। এবং আপনাকে এখানে অবশ্যই আপনার নিজের নাম দিতে হবে। নাম চেঞ্জ করে দিলে অ্যাকাউন্ট ফেক হবে। আর এটাও রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার একটি কারণ। 
  • এরপর আপনাকে আপনার একাউন্টে কোন নাম্বার বা ইমেইল দিয়ে খুলতে চান ইমেইল একাউন্ট বা নাম্বারটি দিতে বলা হবে। 
  • এরপর নাম্বার বা মেইলে কোড আসবে এবং এই কোডটা বসানোর পর আপনার জন্ম তারিখ জেন্ডার এসব বিষয় সিলেক্ট করতে বলা হবে। 

মূলত সব তথ্য দিয়ে এভাবেই আপনার অ্যাকাউন্টটি ক্রিয়েট হয়ে যাবে। তবে অবশ্য আপনার মাথায় রাখতে হবে যে আপনি যেসব তথ্য দিচ্ছেন তা যেন আপনার জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী হয়।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নিয়ম 

আমরা অনেক সময় আমাদের অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট বা যদি অতিরিক্ত অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলি কোন কাজের কারণে তবে অতিরিক্তগুলো ডিলিট করার প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে অনেকেই ডিলিট করার অপশন খুঁজে পান না। এ কারণে আমরা এখন জানাবো যে ফেসবুক একাউন্ট কিভাবে আপনি ডিলেট করতে পারবেন। 

  • আপনার যে একাউন্টটি আপনি ডিলিট করতে চান আর আপনাকে সেই একাউন্টটি ওপেন করতে হবে। এবং আপনি পার্মানেন্টলি ডিলিট করবেন নাকি সাময়িকভাবে ডিলিট করবেন এ ব্যাপারে আপনার নিশ্চিত হতে হবে। 
  • ফেসবুক একাউন্টে ঢোকার পর থ্রি বাটন অপশনে ক্লিক করবেন। 
  • এরপর আপনি পার্সোনাল এন্ড অ্যাকাউন্ট ইনফরমেশন নামে যে অপশনটি পাবেন সেখানে যাবেন। এরপর একাউন্ট ওনারশিপ ও কন্ট্রোল নামের ওই অপশনটি দেখতে পাবেন। 
  • এবং এখন এই অপশনে ক্লিক করলে আপনি ডিএক্টিভেট এবং ডিলিট দুইটা অপশন পাবেন। আপনি যদি সাময়িকভাবে ডিলিট করতে চান তবে ডিএক্টিভেট করতে পারবেন। আর যদি একেবারেই অ্যাকাউন্ট টি ডিলিট করতে চান তবে ডিলিট অপশনে ক্লিক করবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ডটি লিখবেন এবং আপনার একাউন্টটি ডিলিট হয়ে যাবে। 

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিএক্টিভেট কিভাবে করব

আমরা আগে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেসট্রিক্টেড হওয়ার কারণ সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট কিভাবে করব সে ব্যাপারে জানব। আপনার একাউন্ট ডিএক্টিভেট করলে একাউন্টে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একাউন্টে কেউ খুঁজে পাবে না। কিন্তু আপনি যদি আবার পাসওয়ার্ড দিয়ে ওপেন করেন তখন আপনার একাউন্টে আবার একটিভ হয়ে যাবে।

ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট কিভাবে করবেন সে ব্যাপারে জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে ফেসবুক একাউন্ট মুছে ফেলার নিয়ম এর জন্য আমরা যে পদ্ধতি গুলোর দেখিয়েছি সেই পদ্ধতিটাই ফলো করতে হবে। এবং শেষে আপনার যে দুটো অপশন থাকবে ডিএক্টিভেট এবং ডিলিট সে ২ টির মধ্যে ডিএক্টিভেট অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। 

ফেসবুক এর পাসওয়ার্ড উদ্ধার করার পদ্ধতি

  • ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমরা জেনেছি এবং ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ হিসেবে পাসওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখন আমরা অনেক সময় পাসওয়ার্ড ভুলে যায়। এক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করার পদ্ধতি কি হতে পারে নিচে সে বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে। 
  • খুব সহজ উপায় হচ্ছে আপনাকে ফরগট পাসওয়ার্ড লিংকটিতে ক্লিক করতে হবে।
  • এখন রিসেট ইউর পাসওয়ার্ড নামে একটি পেজ পাবেন। সেটা সিলেক্ট করে ভেরিফাই কোড বসাতে হবে। 
  • ইমেইল আইডি ব্যবহার করলে ইমেইল এ একটি ভেরিফাইড কোড আসবে। বা আপনি যদি ফোন নাম্বার ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ফোন নাম্বারে একটি কোড আসবে। 
  • এবং এই কোডটি কপি পেস্ট হবে। 
  • এরপর নিউ পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। নিউ পাসওয়ার্ড অবশ্যই অনেক স্ট্রং হতে হবে। কারণ পাসওয়ার্ড সাধারণ হলে হ্যাক করা খুবই সহজ হয়ে পড়ে। এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আবার নতুন পাসওয়ার্ডটি দিয়ে অ্যাকাউন্টটি লগ ইন করতে হবে। এবং এবার আপনার পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই কোথাও লিখে বা মনে রেখে দিতে হবে।

পুরাতন ফেসবুক একাউন্ট ফেরত আনবো কিভাবে

ফেসবুক একাউন্ট রেসট্রিক্টেড হওয়ার পরেও অনেকে পুরাতন ফেসবুক আইডিটি লগ ইন করতে পারেন না এক্ষেত্রে নতুন করে লগইন করতে হয়। অথবা পুরাতন ফোন হারিয়ে গেলেও আপনার অ্যাকাউন্টটি ওপেন করার জন্য বেশ কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। 

  • আমরা ফেসবুক একাউন্ট ক্রিয়েট করার জন্য সাধারণত মোবাইল নম্বর বা ইমেইল এড্রেস এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে তৈরি করি। এজন্যই আপনাকে প্রথমে আপনার কম্পিউটার দিয়ে অ্যাপস বা ওয়েবসাইটে ফেসবুক ওপেন করতে হবে।
  • এরপর ফেসবুক ওপেন করলে লগইন অ্যানাদার অ্যাকাউন্ট নামে একটি অপশন আসবে এটিতে ক্লিক করবেন। 
  • এখানে আপনি যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান তাহলে ফরগট পাসওয়ার্ড বা পাসওয়ার্ড মনে থাকলে পাসওয়ার্ডটি লিখবেন। এবং পাসওয়ার্ড এর উপরে ফোন নাম্বার অথবা ইমেইল এড্রেস দিতে হবে।আপনার অ্যাকাউন্টটি যেই ইমেইল এড্রেস দিয়ে খোলা হয়েছিল সেটা যদি ঠিকঠাক ভাবে লিখেন তবে আপনার ফেসবুক একাউন্টটি ওপেন হবে।

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিকশন বিষয়ক আরো কিছু প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ কিভাবে ফেসবুক একাউন্ট খোলা যাবে?

উত্তরঃ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা উপরের অণুচ্ছেদে আলোচনা করেছি। ফেসবুক একাউন্ট খোলার নিয়মটি খুবই সহজ। চাইলে যে কেউ একাউন্টটি খুব সহজেই খুলতে পারবেন।

প্রশ্নঃ ভিন্ন ভিন্ন একাউন্টে একই পাসওয়ার্ড দেওয়া কি ঠিক হয়?

উত্তরঃ ভিন্ন ভিন্ন একাউন্টে একই পাসওয়ার্ড দিলে একটা অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলে বাকি একাউন্ট গুলো অটোমেটিক হ্যাক হয়ে যায়। তাই পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলাই ভালো।

প্রশ্নঃ সাইবার বুলিং এর প্রতিরোধের উপায় কি?

উত্তরঃ যে আইডি থেকে আপনাকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে আইডিটি ব্লক করে রাখবেন। 

প্রশ্নঃ অপরিচিত কোন বাজে মেসেজ আসলে আপনার করণীয় কি?

উত্তরঃ অবশ্যই আপনি এক্ষেত্রে ওই আইডিটি ব্লক করবেন এবং বিষয়টি পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখবেন। 

ফেসবুক একাউন্ট রেসট্রিক্টেড হওয়ার কারণ ও হ্যাক হলে করণীয় বিষয়ে লেখক এর মন্তব্য

ফেসবুক একাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হওয়ার কারণ এ ব্যবহারকারীর বিভিন্ন রকম ক্ষতি হবে। মূলত এটা একটা ভোগান্তি। কারণ ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি আমাদের অনেক পার্সোনাল এবং এর থেকেও অনেক ইনকাম করারও ব্যবস্থা রয়েছে। এ কারণে এটি একটা গুরুত্বপূর্ণ একাউন্ট। তাই ফেসবুক ব্যবহার করার জন্য ফেসবুকের নিয়ম নীতিগুলো মেনে চলা জরুরী।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে আমরা আর্টিকেলে আলোচনা করেছি। মূলত ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে এটার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না যে  কোন না কোন ভাবে রিকভার করা যাবে। আমরা এখানে একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তাই আশা করি এখন থেকে বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনি ফেসবুক একাউন্ট তৈরি এবং ব্যবহার করবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url