বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম ও ১০০% ভেরিফিকেশন

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন। অ্যাকাউন্ট খোলার পরও বেশ কিছু বা ধাপ রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। বিটকয়েন বিষয়ক আরো কিছু তথ্য আমরা আজকে উল্লেখ করব।

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিটকয়েন ব্যবহারে আমরা কি কি সুবিধা পেতে পারি। বিটকয়েন কি বিটকয়েনের উপকারিতা কি এবং এটির ব্যবহারের বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি বা এটি বৈধ কিনা এসব বিষয়েও আমরা আজকে এই আর্টিকেলে বিস্তারিত জানাবো।

পেজ সূচিপত্রঃ বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম

কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খোলা যায়

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম বিষয়ে জানার জন্য আমরা এটা বলতে পারি যে বিটকয়েন একটি ডিজিটাল ভার্চুয়াল মুদ্রা।এই মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন ধরনের কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা নেই। কোন ধরনের সরকার বা ব্যাংক বা কোন অর্গানাইজেশন এর নিয়ন্ত্রক নয়। বিটকয়েনের কোন মালিকানা নেই। যেমন ইন্টারনেটের মালিক নেই। তেমনি বিটকয়েন এর ও একি অবস্থা। 

কিন্তু আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেমন সুবিধা গ্রহণ করি। তেমনি ইনকাম সোর্স হিসেবে বিটকয়েন ব্যবহার করেও সুবিধা নেওয়া সম্ভব। বিটকয়েন এর ডিজিটাল মুদ্রা রয়েছে তা সহজেই অনলাইনে লেনদেন করার অন্য ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। এর জন্য একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং এর লেনদেনের ব্যবস্থা হচ্ছে কয়েনবেস। 

আজকে আমরা কয়েনবেস বিটকয়েন একাউন্ট খুলে এর কাজ সম্পর্কে জানতে পারবো। বিট কর্নে আয় করে এই কয়েন থেকে বিকাশেও কনভার্ট করে টাকা ক্যাশে রূপান্তর করা সম্ভব। বিটকয়েনের অনেক ধরনের একাউন্ট বেশ রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিটকয়েন লাইট কয়েন ইথিরিয়াম বিভিন্ন ধরনের নামের মুদ্রা রয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে 100$ - 200$ টাকা ইনকাম

এইগুলার মাধ্যমে যে আয় করা যায় তার জন্য কিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট এর প্রয়োজন পড়ে। আর এই ওয়ালেট হচ্ছে কয়েনবেজ। আপনি এর মাধ্যমে বিটকয়েন ইথারিয়াম বিটকয়েন ক্যাশ বা লাইট কয়েন ইত্যাদি জমা রাখতে পারবেন। এবং প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন। তাই আজকে আমরা কয়েন বেজ তার নিয়ম দেখিয়ে আপনাদেরকে বিটকয়েন এর মাধ্যমে ইনকাম করার সুযোগ সম্পর্কে অবগত করব।

বিটকয়েন একাউন্টে লগইন করার পদ্ধতি 

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আমরা সকলে জানিনা বা কিভাবে সম্পর্ক আমাদের বেশিরভাগই ধারণা নেই। তাই আমরা আজকে ২ মিনিটেই বিটকয়েন একাউন্ট খোলার সহজ উপায়ে তাদেরকে জানাবো।

বিটকয়েন একাউন্টে লগইন করার পদ্ধতি

এই অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি খুবই সহজ আপনারা চাইলেই কোন খরচ ছাড়াই একাউন্টটি খুলতে পারবেন। এবং আপনাদের ইনকাম কৃত টাকা পয়সা আদান-প্রদান করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখি একাউন্ট খোলার পদ্ধতিগুলো।

  • প্রথমে একটি ব্রাউজার ওপেন করতে হবে।
  • এরপর কয়েনবেস লিখে সার্চ করতে হবে এবং আপনি নিচের সাইটটি পেয়ে যাবেন। 
  • কয়েনবেস ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর আপনি একটি গেট স্টার্ট নামে অপশন পাবেন। সেটাতে আপনাকে ক্লিক করতে হবে।
  • গেটস স্টার্ট অপশনে যাওয়ার পর আপনি রেজিস্ট্রেশন ফর পাবেন। এই ফর্মে আপনাকে প্রথমে ইমেইল নাম্বার পাসওয়ার্ড লিখতে হবে এরপর নিচে একটি বক্স থাকবে সেটাতে টিক দিতে হবে। এভাবে আপনি আপনার ক্রিয়েট একাউন্ট ক্লিক করবেন। 
  • রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর আপনাকে আপনার ইমেইল একাউন্টে গিয়ে একটি ইমেইল এসেছে কিনা সেটা খোঁজ নিতে হবে। আপনার ইমেইলে একটি লিংক পাঠানো হবে। এবং সেই লিংকে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট যাচাই সম্পন্ন হবে। 
  • আপনার সামনে একটি নতুন ওয়েব পেজ আসবে এবং এখানেও আরও একটি বৈধ মোবাইল নম্বর যোগ করতে হবে। 
  • এরপর আপনার ফোন নাম্বারের জন্য আপনাকে একটি কোড পাঠানো হবে আপনার ফোন নাম্বারে। এবং আপনি সেই কোডটি কয়েনবেস একাউন্টে সেটা এড করবেন। 
  • এভাবে আপনি সফলভাবে একটি কয়েন বেস অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। 
  • এবং পরবর্তী ধাপে আপনার কাছে সব ধরনের ইনফরমেশন সহ আপনার একাউন্টে তথ্য যোগ করতে হবে। 

কয়েনবেজ বা বিটকয়েন একাউন্ট তৈরি করা খুবই সহজ। এবং অনলাইন ইনকাম প্লাটফর্মে এটা আপনার জন্য বড় ধরনের ইনকাম সোর্স বা একটি সাইট হিসেবে খুবই কার্যকর। এবং যেহেতু একাউন্ট খোলা খুবই সহজ। তাই আশা করি আপনাদের অ্যাকাউন্ট খুলতে আর কোন ধরনের সন্দেহ বা সমস্যা থাকবে না।

বিটকয়েন এর পরিচিতি 

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আমরা জানলাম। এবং আমরা খুব সহজেই দুই মিনিটে বিটকয়েন একাউন্ট খোলার পদ্ধতি জানলেও আমরা অনেকে এখনও ক্লিয়ার না যে বিটকয়েন আসলে কি। বিটকয়েন মূলত একটি কয়েন বা মুদ্রা। এটি এমন এক ধরনের মুদ্রা যা ডিজিটাল উপায় ব্যবহার করা হয়। 

বিটকয়েন এর পরিচিতি

অন্যান্য মুদ্রা যেমন টাকা রুপি ডলার সেন্ট এগুলোর মত বিটকয়েন সরাসরি করা যায় না এটির ব্যবহার হয় অনলাইনের মাধ্যমে। যেহেতু এটি হাতে ধরে ব্যবহার করা যায় না বা খালি চোখে দেখা যায় না তাই এটিকে ডিজিটাল কারেন্সি বলা হয়। অনেকে এটাকে ইলেকট্রিক মুদ্রাও বলে থাকেন। 

বিটকয়েনের বিশেষ বিষয় হচ্ছে এর নির্দিষ্ট কোন মালিকানা নেই। যে কেউ এই বিটকয়েন টি ব্যবহার করতে পারে বা মালিকানা নিতে পারেন। যেমন ইন্টারনেটের কোন মালিকানা নেই। এটি সবাই ব্যবহার করে থাকে। বিটকয়েন এর সুবিধা নেওয়ার জন্য যদি আপনি একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তবে আপনিও বিটকয়েন এর মালিকানা নিতে পারবেন।

বিটকয়েন একাউন্ট এর ব্যবহার 

আমরা বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। এখন বিটকয়েন একাউন্ট লগইন করার পর আমাদের কি করনীয় বা বিটকয়েন একাউন্টের এখন ব্যবহার কি হবে তা আমরা জানতে পারবো। বিটকয়েন নিয়মের আমরা যে পদ্ধতি গুলো দিয়েছি সেই পদ্ধতি গুলো পূরণ করার পর আপনি একটি বিটকয়েনের একাউন্ট পাবেন। 

অ্যাকাউন্ট খুললে আপনারা দেখতে পারবেন যে আপনাদের লগইন করা পেজ সেখানে বিভিন্ন ধরনের কারেন্সি রয়েছে। কারেন্সি গুলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইথিরিয়াম লাইট কয়েন বা বিটকয়েন। যেহেতু আপনি বিটকয়েন একাউন্ট তৈরি করেছেন তাই আপনি অপশন গুলার মধ্যে যেখানে লাল চিহ্ন দেখতে পারবেন আপনার বিটকয়েন। আর এখানে ক্লিক করলেই আপনি আপনার চলে যাবেন। 

আর এই এড্রেসে গেলে আপনি যেকোন জায়গা থেকে বিটকয়েন রিসিভ করে আপনি বিটকয়েন রিসিবারে ক্লিক করবেন। এছাড়াও আপনি স্ক্যান করেও বিটকয়েন আপনার একাউন্টে নিতে পারবেন।আবার আপনার একাউন্টের এড্রেসে সরাসরি বিটকয়েন সংগ্রহ করা যায়। সে ক্ষেত্রে আপনার অ্যাড্রেসের উপর ক্লিক করবেন এবং এড্রেসটি কপি করে ফেলবেন। 

আবার আরো একটি বিটকয়েন রিসিভ করার অপশন হচ্ছে আপনার ইমেইল। ইমেইলের মাধ্যমে ও বিটকয়েন রিসিভ করা যায়। ইমেইলের মাধ্যমে ও বিট করা রিসিভ করা খুবই সহজ। এখানে আপনি বিটকয়েন পাঠাতে চাইলে আপনার মেইলে কয়েনের অ্যামাউন্ট দিয়ে মেলটি সেন্ড করে দিবেন। এবং কি পরিমাণ পয়েন্ট পাঠাবেন সেটা অবশ্যই আগে নির্বাচন করে নির্দিষ্ট ঠিকানাই পাঠিয়ে দিবেন। 

আর আপনার বিটকয়েন সেন্ড এবং রিসিভের যত ইনফরমেশন সব ট্রানজেকশন হিস্টোরিতে জমা থাকবে। এটাই মূলত বিটকয়েন ব্যবহার করার খুবই সহজ একটি পদ্ধতি।

বিটকয়েন ওয়ালেট এর কাজ 

বিটকয়েন ওয়ালেট মূলত বিটকয়েন জমা রাখতে কাজে লাগে। বিটকয়েন একাউন্ট খোলার পর বিটকয়েন গুলো যখন আপনি জমা রাখবেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিটকয়েন ওয়ালেট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। মূলত সাধারণ মুদ্রা বা তখন আমরা একটা ওয়ালেট ব্যবহার করি। 

যেহেতু একটি মুদ্রা তাই এগুলো জমা রাখার জন্য ডিজিটাল একটি ওয়ালেট ব্যবহার করতে হয়। এই ওয়ালেট গুলিতে বিটকয়েনের ঠিকানা গুলির এক্সেস এবং লেনদেন করতে ক্রিপটোগ্রাফিক তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। কিছু কিছু বিটকয়েন ওয়ালেট অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্যও ব্যবহৃত হয়। মূলত বিটকয়েন ওয়ালেট হলো একটি প্রোগ্রাম চা বিটকয়েন ব্লক চেইন এর সাথে যোগাযোগ রাখে।

বিটকয়েনে টাকার পরিমাপ

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা জানলাম। এবং বিটকয়েন সম্পর্কিত তথ্য আমরা জেনেছি। কিন্তু আমরা কি জানি যে আমরা বিটকয়েন সম্পর্কে এত কেন আলোচনা করছি? না আমরা এখনো জানতে পারি নাই। কারণ আমাদের ধারণা নাই যে বিটকয়েনের দাম কত হতে পারে। 

আপনি হয়তো জানেন না যে যদি কিছুদিনের মধ্যে একটি বিটকয়েনের দাম কোটি টাকাও হয়ে যায় তবে আপনি আশ্চর্য হতে পারবেন না। কারন আমরা দেখতে পারি যে ২০০৯ সালে এক ডলারে ১৩০৯ বিটকয়েন কেনা যেত। আর তখনকার সময় এক ডলারের মান ছিল ৬৭.৪ টাকা। 

২০০৮ সালেও বিটকয়েনের দাম একই রকমই ছিল। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানেই একটি বিটকয়েনের মান ৪০০০০ ইউএস ডলার হয়ে গিয়েছে। 

বাংলাদেশি টাকায় এর মান ৩৬ লক্ষ টাকা। এবং বলা হচ্ছে যে এটা দিন দিন আরো বাড়তে থাকবে। যেখানে ২০০৯ সালেই একটা বিটকয়েনের মান কয়েক পয়সা মাত্র দাম ছিল। আজ তা আকাশ ছোঁয়া অর্থে পেয়েছে। তাই ভাবুন তো ২০০৯ সালে যারা বিটকয়েন কিনেছিলেন তারা কতটা লাভবান হয়েছেন।

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ বিটকয়েন একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয়তা কি?

উত্তরঃ বিটকয়েন একাউন্ট খোলা খুবই সহজ এটি মোবাইলের কোন অ্যাপ ইন্সটল করার মতোই। আপনাকে ইয়োলো কার্ড কিপটে এক্সচেঞ্জ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে এবং এটা ইন্সটল করে সাইন আপ করলেই আপনি ফ্রী একটি ওয়ালেট পেয়ে যাবেন। 

প্রশ্নঃ বিটকয়েন একাউন্ট খুলতে কি কোন টাকা প্রয়োজন হয়? 

উত্তরঃ হ্যাঁ বিটকয়েন একাউন্ট খুলতে কোন টাকা প্রয়োজন হয় না। এবং ক্রিপ্টো কারেন্সি বিনিয়োগ করার জন্য মাত্র কয়েক ডলার এক্সচেঞ্জ করতে হয়। 

প্রশ্নঃ বিটকয়েন কে নগদ টাকায় রূপান্তর করার পদ্ধতি কি?   

উত্তরঃ বেশ কিছু এক্সচেঞ্জ পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে বিটকয়েন কে নগদ টাকায় রূপান্তর করা যায়। যেমন ব্রোকার এক্সচেঞ্জ। আপনি কোন এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করবেন তার জন্য আপনাকে একটি তৃতীয় পক্ষ খুঁজে বের করতে হবে। 

সাইন আপ করতে হবে আর ব্রোকারেজের যাচাই করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আপনার একাউন্টে বিটকয়েন জমা দিতে হবে। বিটকয়েন্টি অ্যাকাউন্টে বা পেপাল একাউন্টে জমা দিলেই ক্যাশ আকারে উইড্র করতে পারবেন। 

প্রশ্নঃ বিটকয়েন একাউন্ট কি বিনামূল্যে পাওয়া যায়? 

উত্তরঃ বিনামূল্যে বিটকয়েন মানিব্যাগ আপনার সমস্ত অপারেটিং সিস্টেম ও ডিভাইসের জন্য ফ্রি।

প্রশ্নঃ বিটকয়েন থেকে কি আমি টাকা তুলতে পারবো?

উত্তরঃ আপনার বিটকয়েন একাউন্ট থাকলে টাকা তুলতে পারবেন। প্রথমে আপনারেন্সি বিক্রি করে আপনি সেই টাকা আপনার ব্যাংকের একাউন্টে জামা করতে পারবেন।

আয় এর মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েনের ব্যবহার

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা জানলাম। কিন্তু বিটকয়েন ব্যবহার করে কি করে আয় করা যায় আমাদের সে ব্যাপারে এখনো ধারণা নেই। আমরা একটু আগে জানলাম যে বিটকয়েনের দাম কিন্তু লাখ লাখ টাকা। যা সবাই কিনতে পারেনা। এখান থেকে ইনকাম করাও অনেক কঠিন। 

তবে বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার আসলেই অপশন রয়েছে। তিনটি পদ্ধতিতে ইনকাম করা যায়। পদ্ধতিগুলো হল। 

  • বিটকয়েন টাকা দিয়ে কিনে তা রেখে দিতে পারেন। পরবর্তীতে যখন দাম বাড়বে তখন সেগুলো বিক্রি করে আপনি ইনকাম করতে পারবেন। 
  • আবার কোন পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে সেটার পেমেন্ট বিটকয়েনে নিতে পারবেন। এবং সে পেমেন্টটি আপনি আপনার বিটকয়েন ওয়ালেটে জমিয়ে রাখবেন। এবং আবারও সেটা দাম বাড়লে বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে যে লাভটা হবে সেটাই আপনার ইনকাম।
  • আবার আপনি হাই রেজুলেশনের কম্পিউটার ব্যবহার করে মাইনিং করার মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারবেন। 

মূলত বিটকয়েনের থেকে ইনকাম ব্যবস্থাটা নিয়মিত না হলেও অনেকদিন পর একটা সময় এটার অবশ্যই আপনি লাভ পাবেন।

মোবাইলের মাধ্যমে বিটকয়েন দিয়ে ইনকাম

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা জেনেছি। এবং বিটকয়েন দিয়ে যে আয় করা যায় সে সম্পর্কেও আমরা জানলাম। তবে আরও একটি মজার বিষয় হচ্ছে মোবাইল দিয়েও বিটকয়েন এ ইনকাম করা সম্ভব। মোবাইল দিয়ে ইনকাম করার খুবই সীমিত হলেও এর থেকেও বেশ ভালো একটা অর্থ আয় করা যায়। 

মোবাইলের মাধ্যমে বিটকয়েন দিয়ে ইনকাম

আপনার কাছে যদি এটি এন্ড্রয়েড ফোন থাকে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তবে আপনি অতি সহজেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

অথবা মোবাইল দিয়ে আরও একটি উপায়ে ইনকাম করা যায় সেটা হচ্ছে মাইনিং করে।আপনার বিটকয়েন যে অ্যাকাউন্টটা তৈরি করেছেন মাইনিং অপশন রয়েছে। মাইনিং অপশন এ ক্লিক করে আপনি ঢুকলে সেখানে একটি ক্যাপচা আপনার সামনে আসবে। সেই ক্যাপচাটি ফিলাপ করলে আপনার মাইনিং শুরু হবে। 

মাইনিং শুরু করে আপনি ফোনটাকে চার ঘন্টার জন্য রেখে দিতে পারেন।কারণ এখানে চার ঘন্টা অটোমেটিক ভাবে মাইনিং চলতে থাকবে। 4 ঘন্টা পর আবার মাইনে শুরু করতে হবে। এভাবে আপনিও যতক্ষণ ধরে মাইনিং করতে পারবেন সেই পরিমাণ আপনার ইনকাম হবে। 

মোটামুটি ট্রেন্ডিংয়ে যদি আপনি একদিনের মাইনিং হিসাব করেন তবে দেখা যায় যে দিন প্রতি আপনার ১০ ডলার ইনকাম হবে। এবং সেটি উইথড্র করে আপনি আপনার ওয়ালেট ব্যালেন্সে যোগ করে রাখতে পারেন। এভাবে প্রতিদিন আপনি ট্রেনিং করে আপনার আয় বাড়াতে পারবেন।

বিটকয়েনের সাথে বিকাশের সম্পর্ক

আমরা যেহেতু বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম জেনেছি এবং বিটকয়েন থেকে আয় করা যায় সে সম্পর্কেও আমরা জানতে পেরেছি। এভাবে আমরা বিটকয়েনের কাজ করে বেশ কিছু বিটকয়েন জমিও ফেলেছি। কিন্তু আমরা এখন বিপদে পড়েছি কারন আমরা বিটকয়েন কে টাকায় কনভার্ট করতে পারছি না। 

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটু উপায় হচ্ছে বিটকয়েন থেকে টাকা বিকাশ এর মাধ্যমে উইথড্র করা। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অনেক ফেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা বিটকয়েনটি নিয়ে আপনাকে আর টাকা ফেরত দিবে না। বিটকয়েন কে টাকায় কনভার্ট করে বিকাশে নেওয়ার জন্য ডলার বাই সেল ধরনের অনেকগুলো ওয়েবসাইট রয়েছে। 

এই ওয়েবসাইট গুলোতে কিটো কারেন্সি পেমেন্ট করে বিকাশে টাকা নিতে পারবেন। তবে আবারো প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটেই যে টাকা তুলতে পারবেন তার কোন গ্যারান্টি নেই। কারণ ফেক হতে পারে। তাই প্রথমে আপনি কম পরিমাণ বিটকয়েন বিক্রি করে দেখতে পারেন যে আপনি আসলেই পেমেন্ট পান কিনা। যদি দেখেন যে পেমেন্ট পাচ্ছেন এবং আপনি নিশ্চিত হন তবে আপনি বড় এমাউন্টের টাকা ট্রান্সফার করবেন।

বাংলাদেশের সাথে বিটকয়েনের বৈধতা

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা জেনেছি কিন্তু আমরা এটা যে বাংলাদেশে বিটকয়েন কেনা বেচা বৈধ কিনা। হ্যাঁ অতি দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে বিটকয়েন কেনাবেচা বাংলাদেশের জন্য বৈধ না। 

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেন যে বিটকয়েন সম্পর্কিত কেনাবেচা সম্পূর্ণ অবৈধ। যদিও বাংলাদেশের বেচাকেনা খুবই কম। এবং এর প্লাটফর্মে ইনকামের পরিমাণ বাড়ছে। তাই ২০১৭ সালে আবারো বিটকয়েন লেনদেন সম্পর্কিত সতর্কতা চালু করা হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান যে বিটকয়েনের বিষয়ে কোন অনুমোদন বাংলাদেশ দেননি। কারণ যেহেতু একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা তাই এর লেনদেন বা মানি লন্ডারি এবং সন্ত্রাসের অধ্যায়ন সম্পর্কিত আইনের লংঘন হতে পারে এবং দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। 

তাই যেহেতু জাতীয়ভাবে এটি বৈধ না তাই আপনি যদি বিটকয়েন নিয়ে কাজ করেন তবে অবশ্যই সম্পূর্ণ দায়ভার আপনার। বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানান যে যেহেতু লেনদেন বা আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাদের কাছে যদি কারোর লেনদেন বিষয়ে এরকম নোটিশ আছে তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক কোন সিদ্ধান্তে ক্ষেপ নিবেন কিনা সে ব্যাপারে কেন হয়েছে। তারা বলেছেন যে বিটকয়েন লেনদেন এর ব্যাপারে ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।

বিটকয়েন বিষয়ে আরো কিছু প্রশ্ন

প্রশ্নঃ বিট কয়েন কি একটি সফল বিনিয়োগ? 

উত্তরঃ বিটকয়েন একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। তবে আপনি এই বিনিয়োগ করে মাঝে মাঝে অর্থ হারাতে পারেন আবার লাভবানও হতে পারেন। 

প্রশ্নঃ আমি কি নগদে আমার বিটকয়েন বিক্রি করতে পারি? 

উত্তরঃ হ্যাঁ আপনি আপনার বিটকয়েন পেয়ার তো পেয়ার করে লেনদেনের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ বিটকয়েন কি বাংলাদেশ অনুমোদন করেছে? 

উত্তরঃ বাংলাদেশের জন্য এটা এখনো অনুমোদিত হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা উল্লেখ করেছেন যে যেহেতু ফেন্সি গুলি কোন দেশের দরপত্রে ভার্চুয়ালি লেনদেন করা সম্ভব নয় এবং এটি কোন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রদান ব্যবস্থার জন্য নির্ভর করে না। তাই এটি বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত নয়। 

প্রশ্নঃ বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ?

উত্তরঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১ সালে বলেছিলেন যে যদি কোন সন্ত্রাসের অর্থায়নে জড়িত থাকে তবে এটি একটি অপরাধ হিসেবে পরিচিতি পাবে। 

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আজ আপনাদেরকে আমরা বিস্তারিত জানালাম। বিটকয়েন খোলা কতটা সহজ এবং এর বিস্তারিত আরো তথ্য আপনারা যারা জানতে চেয়েছিলেন তারা এই আর্টিকেলের মাধ্যমেই আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। এছাড়া বিটকয়েন দিয়ে যে ইনকামেরও ব্যবস্থা রয়েছে সেই পদ্ধতিও আমরা আমাদের আর্টিকেলে জানিয়েছি। 

২ মিনিটে বিটকয়েন একাউন্ট খুলুন খুব সহজেই এবং আপনার কষ্টের উপার্জিত অর্থ যেখানেই পাঠান না কেন সেটা যেন ভুল জায়গা না হয় এবং বুঝে শুনে যেন বিনয় করতে পারেন সেই ব্যাপারেই এটি সহজ ধারণা আপনাদেরকে আজ আমরা দিয়েছি। ভবিষ্যতে বিটকয়েন সম্পর্কিত কোনো সমস্যায় যেন পড়তে না হয় সেজন্যই আমাদের এত তথ্য বহুল প্রচেষ্টা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url