মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৪

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা অনেকেই  জানিনা। বিকাশে মোবাইলের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম জানা থাকলে আপনি ঘরে বসেই টিকেট কেটে ফেলতে পারবেন। এমনকি ট্রেনের টিকেট কাটার অ্যাপ এর সুবিধা রয়েছে।  

মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম

বর্তমানে রেলস্টেশনে গিয়ে টিকেট কাটা সময় সাপেক্ষ একটি কাজ। কিন্তু বর্তমান সরকার এই সমস্যাটির সমাধান এনেছেন। তারা মোবাইল এর মাধ্যমে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য বিভিন্ন ধরনের তথ্য  প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়েছেন।   

পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৪ 

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম 

বর্তমানে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম বিষয় অনেকেই অবগত নন। বিকাশের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট খুব সহজেই কম সময়ের মধ্যে কেটে ফেলা সম্ভব। ট্রেনের টিকেট কাটা খুবই কষ্টসাধ্য এবং ভোগান্তি সমৃদ্ধ একটি কাজ। এই ভোগান্তি বিকাশের মাধ্যমে ২ মিনিটেই সমাধান সম্ভব।

প্রয়োজনে অবশ্যই বিকাশের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কিভাবে কাটা যায় সে ব্যাপারে জানা জরুরী।বিকাশ দিয়ে শুধু ট্রেনের টিকেট কাটে না বিকাশ দিয়ে আরো অনেক ধরনের জীবনমুখে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। বিকাশ আমাদের দৈনন্দিন অনেক কাজে সময় বাঁচানোর জন্য অনেক ধরনের সুবিধা প্রদান করে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ট্রেনের টিকেট কাটা।

আরও পড়ুনঃ ফ্রি লটারি খেলে টাকা ইনকাম - ২৪০ টাকা ফ্রী বিকাশ পেমেন্ট

আমাদের গভমেন্টের একটি সাইট রয়েছে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য। এই সাইটে ট্রেনের টিকেট কাটা সম্ভব কিন্তু তা মাঝেমাঝে সময় সাপেক্ষ এবং টিকেট পাওয়া দুরুহ। তাই বিকাশের সাহায্যে ট্রেনের টিকেট সহজে এবং তাড়াতাড়ি কিভাবে কাটা সম্ভব সে ব্যাপারে আমরা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

০১। বিকাশের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য প্রথমে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এবং এই অ্যাপটিতে আপনার যেকোনো একটি ফোন নাম্বার এবং আপনার ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বিকাশ একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর আপনি বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আপনার একাউন্টে এন্ট্রি করবেন।

০২। বিকাশ অ্যাপ এ গেলে আপনি নিচে দেখতে পারবেন বাংলাদেশ রেলওয়ে লেখা একটি ওয়েবসাইট।

০৩। এরপর বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইটটিতে ঢুকতে হবে এবং আপনাকে কিছু রুলস বলবে যেগুলো দেখে আপনাকে অবশ্যই আই এগ্রি লাইনটিতে ক্লিক করতে হবে।

০৪। এরপর আপনার সামনে একটি ফরম আসবে যেখানে আপনি কোথা থেকে উঠবেন এবং কোথায় নামবেন, যাওয়ার দিন ও কোন ধরনের সিটে যেতে চান সব পূরণ করতে হবে।

০৫। সমস্ত ফরম পূরণ করা হয়ে গেলে আপনাকে সার্চ ট্রেন এই অপশনে ক্লিক করতে হবে।
০৬। যদি ও আপনার ওই ডেস্টিনেশনে টিকেট অ্যাভেলেবল থাকে এবং না থাকে তবুও আপনার সব ধরনের ইনফরমেশন শো করবে। এবং যদি টিকেট থাকে তবে আপনি সেখানে ক্লিক করে টিকেট কিনতে পারবেন।
০৭। একই সাথে যতগুলো ট্রেনের টিকেট দেখানো হচ্ছে প্রত্যেকটা ট্রেনের কোন কোন স্টেশনে থামবে কতক্ষণ থামবে এবং পৌঁছাতে কত সময় লাগবে সব ধরনের তথ্য শেয়ার করা থাকে।

এবং এভাবেই আপনি আপনার কাঙ্খিত সিটটি বুকিং করে খুব সহজেই বিকাশের মাধ্যমে টিকেট কিনতে পারবেন।  

সঠিক পদ্ধতিতে মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন বিকাশ ছাড়া সরাসরি মোবাইল দিয়ে কি করে ট্রেনের টিকেট কাটা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। 

সঠিক পদ্ধতিতে মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম

আপনার হাতে থাকা মোবাইল টি এখন ঘরে বসে যে কোন ধরনের কাজ করার একটি সহজ মাধ্যম। মোবাইল দিয়ে এত ধরনের জীবনমুখী কাজ করা সম্ভব যা আমাদের দৈনন্দিন সমস্যাকে সমাধানের পথে নিয়ে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে লোগো ডিজাইন - ১৫টি ফ্রি লোগো ডিজাইন সফটওয়্যার

তেমনি মোবাইল দিয়ে টিকেট কাটাও আমাদের জন্য অনেক সহজ উপায় হিসেবে কাজ করে। মোবাইল দিয়ে টিকেট কাটার জন্য দুই ধরনের সুবিধা রয়েছে। একটি হচ্ছে অ্যাপের সাহায্যে এবং অন্যটি হচ্ছে ওয়েবসাইটের সাহায্যে। বর্তমানে আমরা ওয়েবসাইটের সাহায্যে কি করে মোবাইল দিয়ে সহজেই টিকেট কাটা সম্ভব হয় সেই ব্যাপারে আলোচনা করব। 

  • প্রথমেই টিকেট কাটার জন্য যেকোনো একটি ব্রাউজারে যেতে হবে। ব্রাউজারে আপনাকে সার্চ অপশনে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে লিখে সার্চ দিতে হবে। সার্চ দিলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট দেখতে পাবেন। এরপর ওয়েবসাইটটায় ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটের ভিতর যেতে হবে।
  • এরপর আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি ফর্ম পূরণ করতে বলবে। যেখানে আপনি কোথায় যাবেন, কোন জায়গা থেকে উঠবেন যাওয়ার ডেট এবং সিটের ধরন এইসব তথ্য দিয়ে আপনাকে সার্চ দিতে হবে।
  • সার্চ দিলে আপনি আপনার জন্য বরাদ্দ ট্রেন এবং টিকেট এর লিস্ট দেখতে পারবেন। এখানে আপনি দেখবেন আপনার জন্য কোন সিট ফাঁকা আছে কিনা। সিট ফাঁকা থাকলে আপনি বুকিং করে ফেলতে পারবেন।
  • বগি গুলো দেখিয়ে আপনাকে সিট পছন্দ করতে বলা হবে। আপনি আপনার সুবিধামতো একটি সিট পছন্দ করবেন। এবং কোন সিট যদি ফাঁকা না থাকে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কালার প্যালেট থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন সিটটি ফাঁকা নেই।
  • এরপর আপনার কন্টিনিউ প্রসেস নামের লেখাটির উপর ক্লিক করে সামনে যেতে হবে। সেখানে দেখতে পাবেন আপনাকে বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট অপশন দেখানো হচ্ছে। সেখান থেকে আপনি আপনার সুবিধামতো পেমেন্ট পছন্দ করবেন।
  • পেমেন্ট করার জন্য আপনি যে অপশনটি পছন্দ করবেন তার নাম্বার যুক্ত করতে হবে এবং নাম্বারে একটি ওটিপি আসবে। পরে ওটিপি কোড লিখে কনফার্ম করলে আপনার টাকা কেটে নেয়া হবে।

এভাবে আপনি আপনার টিকেট কাটা শেষ করবেন। এবং আপনাকে আপনার মেইলে আপনার টিকেট pdf দেয়া হবে। এটি আপনার ফোনে সংরক্ষণ করে রাখবেন অথবা প্রিন্ট করে ফেলবেন।

মোবাইল অ্যাপ এ ট্রেনের টিকেট  

ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য বিকাশ যেমন একটি অ্যাপ তেমনি ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপটিতে আপনি বিকাশের মতো করেই বা ওয়েবসাইটের সাহায্যে যেভাবে আপনি টিকেট কাটতে পারেন সেভাবে অ্যাপেও টিকেট কাটবেন। 

নিচে মোবাইল অ্যাপে ট্রেনের টিকেট কাটার ধাপগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

  • প্রথমেই আপনি আপনার ফোন থেকে প্লে স্টোরে গিয়ে রেলওয়ে সেবা অ্যাপটি ডাউনলোড করবেন। ডাউনলোড করলে আপনি অ্যাপটিতে ঢুকতে পারবেন এবং আপনার রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। 
  • রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনি রেলওয়ে সেবার সেবা সমূহ দেখতে পাবেন। সেখানে টিকেট ক্রয় নামের যেই অপশনটি পাবেন সেখানে ক্লিক করবেন। 

এরপর আপনার সামনে একটি ফরম আসবে সে ফর্মটা পূরণ করতে হবে। মূলত ফর্মে আপনার যাত্রার গন্তব্য, কবে যাবেন এবং কি ধরনের টিকেট লাগবে সেই বিষয় জানতে চাওয়া হবে।

এরপর পরবর্তী ধাপে আপনি ট্রেন এবং ট্রেনের টিকেট এর অপশন দেখতে পাবেন। এবং টিকেট থাকলে আপনি সেখানে এন্ট্রি করে পছন্দমত সিট বুকিং দিতে পারবেন।

সিট বুকিং দেওয়া হয়ে গেলে আপনার সামনে পেমেন্ট মেথড এর অপশন দেখানো হবে এবং সেটা পছন্দ করতে হবে।

এরপর আপনার ৫ মিনিটের একটি রিমাইন্ডার দিবে এবং আপনি যেই মাধ্যমে পেমেন্ট করতে ইচ্ছুক নির্দিষ্ট নাম্বারে ওটিপি আসবে। এবং ওটিপি কপি পেস্ট করে আপনার ফোন নাম্বারটি ভেরিফাই করা হবে।

এরপরের ধাপে আপনাকে প্যাসেঞ্জার ডিটেইল সম্পর্কে ইনফরমেশন দিতে হবে। এখানে আপনার মেইল এড্রেস দিতে হবে। যেখানে পরবর্তীতে আপনার টিকেট পিডিএফ আকারে আপনি পাবেন। এবং পিডিএফটি সংগ্রহ করবেন ও ডাউনলোড করে নিবেন এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট করে ফেলবেন।

মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার খরচ 

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম এবং মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম দুটি প্রায় এক। এবং টিকেটর ফি একই রকম। তবে অনলাইনে টিকেট কাটা হচ্ছে বলে টিকেটের যে আসল ফি রয়েছে তার সাথে সার্ভিস চার্জ ২০ টাকা অতিরিক্ত অ্যাড করা হয়। তাছাড়া টিকেটের যে খরচ সেটা অনলাইন বা অফলাইন দুটিতেই সমান।   

তাই অবশ্যই আশা করি আমরা বুঝতে পারছি সঠিক নিয়মে যদি আপনি ঘরে বসেই অনলাইন এর মাধ্যমে টিকেট কেটে ফেলতে পারেন এতে শুধু আপনার সময় বাঁচবে না আপনার টাকাও বেঁচে যাবে। কারণ এখানে কোন অতিরিক্ত খরচ হয় না। এবং আশা করি আপনি খুব স্বাচ্ছন্দের সাথে ট্রেন জার্নি উপভোগ করবেন।

ট্রেনের টিকেট বুকিং করার নিয়ম 

আমরা মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৪ এ দেখেছি যে খুব সহজে অনলাইনে অথবা অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটা যায়। এবং সেখানে আরো দেখতে পেরেছি যে ট্রেনের টিকেট বুকিং করারও অপশন রয়েছে। মূলত ট্রেনের টিকেট বুকিং করা আর কিছুই নয়। আমরা আগের আলোচনায় তা জানিয়ে দিয়েছি। 

আপনাকে এজন্য প্রথমেই রেল সেবা অ্যাপ অথবা ওয়েব সাইটে যেতে হবে। এরপর সেখানে গিয়ে আপনার গন্তব্যের জন্য টিকেট দেখলে আপনি যে টিকেটটি পছন্দ করবেন এবং ওকে করলে আপনার টিকেট টা বুক হয়ে যাবে। এবং এই বুকিং টিকেট আপনার নামে পাঁচ মিনিটের জন্য বুক্ট থাকবে। 

এরপর ৫ মিনিটের মধ্যে আপনার পেমেন্ট ক্লিয়ার করলে আপনার টিকেট কেনার প্রসেস কমপ্লিট হবে। আর এভাবেই এই টিকেট বুক হয়ে যাবে এবং অন্য কেউ টিকেট আবারো কিনতে পারবে না। তাই জালিয়াতির হাত থেকেও রক্ষা পাবেন। 

মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটা বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন  

বাংলাদেশের ট্রেনের টিকেট কেনার জন্য সর্বনিম্ন কত বছরের বাচ্চার টিকেট লাগে? 

২০২০ সালের নিয়ম অনুযায়ী যেসব বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের কম তাদের জন্য টিকেট বরাদ্দ নয়। 

বার্থ বুকিং কি পরিবর্তন করা যায়?  

নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনি বার্থ বুকিং করেন তবে সেটা পরে পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে সেক্ষেত্রে আপনি টিটির সাথে যোগাযোগ করে এটা ব্যবস্থা করতে পারবেন। 

বাংলাদেশ ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম কি?  

বাংলাদেশ ট্রেনের টিকেট অনলাইন অফলাইন দুই ভাবেই কাটা সম্ভব। তবে বর্তমানে অনলাইন টিকেট কাটার পদ্ধতি বেশি জনপ্রিয়।  

পিএনআর কি? 

পিএনআর একটি নম্বর। টিকেট কাটা কমপ্লিট হলে টিকেটের সাথে এই নাম্বারটি দেওয়া থাকে। এখানে যাত্রীর সব ধরনের ইনফরমেশন পাওয়া যায়।  

স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকেট কিভাবে কিনব 

সঠিক পদ্ধতিতে মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা জানলেও অনেকের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনে স্টেশনে গিয়েও ট্রেনের টিকেট কাটতে হয়। সে ক্ষেত্রে টিকেট কাটা খুবই সহজ। এবং আপনাকে তেমন কোন কাজ করতে হয় না শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।  

কারণ কাউন্টারে প্রবেশ করলে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে আপনি কোথায় যাবেন এবং সেই জায়গায় যাওয়ার জন্য যদি সিট থাকে তবে আপনাকে একটি টিকেট দেওয়া হবে এবং আপনার টাকা পরিশোধ করে দিতে হবে। এবং সাবধানে থাকবেন যেন টিকেট এর সাথে আপনি পেমেন্ট স্লিপ নিতে ভুলবেন না। এবং অবশ্যই মাথায় রাখবেন আপনার পছন্দমত সিট দেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে।

ক্রয় কৃত ট্রেনের টিকেট চেক করার পদ্ধতি  

অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটার পর অনেকের টিকেট ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কনফার্ম হতে পারেন না। বা মাঝে মাঝে তর্কের সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে প্যানিক হওয়ার কোন কারণ নেই। আপনার কাছে উল্লেখিত উপরে যে অনলাইন এ টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি এখানেই এই সমস্যার সমাধান রয়েছে। 

আপনি রেল সেবা অ্যাপে গেলে টিকেট যাচাই নামে একটি অপশন দেখতে পারবেন। টিকেট চেক করার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার টিকেটটি কনফার্ম হয়েছে। এছাড়াও আপনার টিকেটটা যে ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়েছে এটা ছাড়াও আপনার ট্রাভেল রুট সম্পর্কেও আপনাকে অনেক ইনফরমেশন দিবে।

১৮ বছরের নিচে যাত্রীদের টিকেট কাটার নিয়ম  

আপনি অফলাইন বা অনলাইনে মাধ্যমে যখন টিকেট কাটবেন তখন দেখতে পাবেন যে পাঁচ বছরের নিচের যাত্রীদের জন্য টিকেট কাটা লাগেনা। এর ওপরে চাইল্ড নামে একটা অপশন রয়েছে। আর সবারই প্রশ্ন থাকে যে বাচ্চাদের বা ১৮ বছরের নিচে যাত্রীদের টিকেট কিভাবে কাটবো। কারণ তাদের কোন ভোটার আইডি কার্ড নেই।   

আপনাদের সুবিধার্থে জানানো হচ্ছে যে ১৮ বছরের নিচে যাত্রীদের টিকেট কাটার জন্য তাদের জন্ম নিবন্ধন এর নম্বর প্রযোজ্য। জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়েই তাদের জন্য টিকেট কাটা যায়। তাই আশা করি ১৮ বছর নিচে যাত্রীদের টিকেট কাটার বিষয়ে আপনাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

টিকেট ফেরত ব্যবস্থা  

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা জেনেছি। আমরা এখানে জেনেছি যে ট্রেনের টিকেট অনলাইনের মাধ্যমে ১০ দিন আগে কেটে ফেলা যায়। নিয়ম অনুযায়ী এবং সুবিধার উপর ভিত্তি করে যদি আপনি আপনার টিকেটটি ৫ থেকে ৬ দিন আগে কেটে ফেলেন তবে আপনি বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। 

টিকেট ফেরত ব্যবস্থা

কারণ এর মধ্যে যদি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে বা কোন কারনে আপনার ভ্রমণ ক্যানসেল করতে হয় তবে আপনি এই টিকেটের টাকা ফেরত পাবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পুরোপুরি টাকা ফেরত না পেলেও কয়েক শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। শর্তগুলো জানতে পারলে আপনাদের টিকেটের টাকা কিভাবে ফেরত পাচ্ছেন এ ব্যাপারে একটি ধারণা তৈরি হবে।   

  • আপনি যদি যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকেট ফের দেন তাহলে এসি টিকেটের জন্য ৪০  পার্সেন্ট এবং অন্যান্য ক্লাসের জন্য ২৫ পার্সেন্ট টাকা কেটে নেওয়া হবে।
  • ৪৮ ঘণ্টার কম এবং একদিনের বেশি এমন সময়ের মধ্যে যদি আপনি টিকেট ফেরত দিতে চান তাহলে আপনার ভাড়ার ২৫ পার্সেন্ট টাকা কেটে নেওয়া হবে। 
  • ১ দিন এর কম ও ১২ ঘণ্টার বেশি সময়ের মধ্যে যদি আপনি টিকেট ফেরত দিতে চান তবে আপনার ৫০% টাকা কেটে নেওয়া হবে। 
  • ১২ ঘন্টার কম আর ছয় ঘন্টার বেশি সময়ের মধ্যে টিকেট ফেরত দিতে চাইলে ৭৫% টাকা কেটে নেওয়া হবে। 
  • এবং এর থেকে কম সময় থাকলে আপনি আর টাকা ফেরত পাবেন না।

স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেন ছেড়ে দিলে করণীয় 

সাধারণত ট্রেনের টিকেট কাটার পর আমরা সবাই চেষ্টা করি ট্রেন সঠিক সময়ের ধরা। কারণ একটি টিকেটের মূল্য অনেক। কিন্তু কোন কারণে যদি ট্রেনটি মিস করে ফেলি তবে আমাদের মাথায় হাত পড়ে। কারণ বুঝতে পারি না আমাদের কি করা উচিত। তাছাড়া মাঝে মাঝে টিকেটও হারিয়ে যেতে পারে।  

যদি টিকেট হারিয়ে যায় তবে আপনার করণীয় বিষয়টি হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই স্টেশন অফিসে গিয়ে চিফ রিজার্ভ সুপারভাইজার কে একটি আবেদন দিতে হবে। কিন্তু অবশ্যই এই আবেদন পত্রটি ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে জমা দিতে হবে। ২৪ ঘন্টা আগে জমা না দিলে আবেদন পত্রটি গ্রহণযোগ্য হবে না। 

এবং সময় মত আবেদন পত্রটি জমা দিলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আপনার ভোটার আইডি কার্ডের সাথে মিলিয়ে খোঁজ নিবেন যে আপনার টিকেটটা আসলেও কাটা হয়েছিল কিনা। যদি মিলে যায় তবে আপনি একটি ডুবলিকেট টিকেট পাবেন। এবং সে ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু টাকা পে করতে হবে।  

এরপর যদি আর একটি সমস্যা যে আপনি লেট করে ফেলেছেন। ট্রেনটি ধরতে পারেন নাই। সেক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? আসলে ট্রেন মিস করলেও আপনি যদি পরবর্তী স্টেশন থেকে উঠতে পারেন তবে আপনার ওই টিকেটটি বৈধ থাকবে। 

আর সেটাও যদি করতে না পারেন তবে এক্ষেত্রেও আপনাকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। এবং আবেদন করা হলে কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবেন। এবং ৫০% টাকা ফেরত দিবেন। তবে দূরত্ব অনুযায়ী পার্সেন্টেজ এর পরিবর্তন হতে পারে।

ট্রেনের টিকেট কেনার শর্ত  

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা জানলেও কেনার বিষয় বেশ কিছু শর্তাবলী রয়েছে। কারণ ট্রেনের টিকেট কাটার শর্তাবলী মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে। তাই টিকেট কাটার আগে টিকেট কেনার শর্তাবলী গুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরী। 

  • বুকিং এর জন্য টিকিট সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে কাটা সম্ভব। দশ দিনের আগে কোন টিকেটই কাটা যায় না।  
  • টিকেট ফেরত যোগ্য। তবে কোন কোন টিকেট আবার ফেরত দেওয়া যায় না। আবার যেগুলো ফেরত দেওয়া যায় সেগুলোর পুরোপুরি টাকা আপনি ফেরত পাবেন না। 
  • টিকেটের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও টিকেট দিয়ে ভ্রমণ করা বৈধ। 
  • আপনি টিকেট শুধু সংগ্রহ করলেই হবে না আপনার টিকেট কাটার সাথে একটি নির্দিষ্ট আসনেরও ব্যবস্থা করে নিতে হবে। 
  • ট্রেনে ওঠার আগে অবশ্যই আপনার সাথে আপনার এনআইডি কার্ড নিয়ে উঠতে হবে। 
  • কিছু টিকেটের বিশেষ শর্ত আরোপ করা থাকে। এই শর্তগুলো আগেই জেনে নিতে হবে। যেমন কিছু বয়সের জন্য ছাড় পাওয়া যায়। 
  • ট্রেনের সিটের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। ওই সব শ্রেণীতে বসার জন্য বা সুবিধা গ্রহণ করার জন্য বেশ কিছু শর্ত থাকে। এই শর্তগুলো আগে জেনে নেওয়া জরুরী।  

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কিত প্রশ্ন    

সর্বোচ্চ কতদিন আগে ট্রেনের টিকেট কাটতে পারব?

সর্বোচ্চ ১০ দিন আগে ট্রেনের টিকেট কাটা যায়। 

ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য অনলাইন ভিত্তিক অ্যাপ এর নাম কি? 

ট্রেনের টিকেটকাটার জন্য অনলাইন অ্যাপের নাম রেল সেবা। 

ট্রেনের টিকেট কি ফেরত দেওয়া সম্ভব? 

হ্যাঁ ট্রেনের টিকেট সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আপনি যত টাকা ব্যয় করেছেন সেই পরিমাণ টাকাই ফেরত পাবেন না। আপনি ট্রেনের যাত্রা সময়ের যত কম সময়ের মধ্যে টিকেট ক্যানসেল করবেন তত বেশি ভাড়া আপনার থেকে কাটা হবে। 

যেমন ১২ ঘণ্টা থেকে কম বা 6 ঘন্টা থেকে বেশি এ সময়ের মধ্যে যদি আপনি টিকেট ক্যানসেল করেন তবে ৭৫% ভাড়া কেটে রাখা হবে। এবং বাকিটা দিয়ে দেয়া হবে। এভাবে যদি আপনি আরও বেশি সময় আগে টিকেটটা ক্যানসেল করেন তবে আপনার ভাড়া থেকে তত কম পরিষেবা চার্জ কাটা হবে।

মোবাইল দিয়ে বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৪ সম্পর্কে লেখক এর মন্তব্য

বিকাশে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আমরা উপরের আর্টিকেলে অনেক তথ্য পেয়েছি। শুধু বিকাশে নয় সঠিক পদ্ধতিতে মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কেও আমরা জানতে পেরেছি। বর্তমান সময়ে ট্রেনের টিকেট কাটা অনলাইনের মাধ্যমে খুবি সহজ এটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ট্রেন বাংলাদেশের মানুষের যোগাযোগের জন্য একটি বড় মাধ্যম। আর এই ট্রেনের টিকেট কাটা খুবই ঝামেলার একটি কাজ ছিল যখন অনলাইনে সুবিধা পাওয়া যেত না। কিন্তু অনলাইনে যখন থেকে বাংলাদেশ সরকার টিকেট কাটার সুবিধার প্রদান করেছেন তখন থেকে ট্রেনের জনপ্রিয়তা ও বেড়েছে। আর ট্রেনের টিকেট অনলাইন এর মাধ্যমে কেনাবেচার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url