সহজ পদ্ধতিতে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ ২০২৪

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চান? এটা খুবই সহজ। বর্তমান সময়ে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং দিন দিন বাড়ছে। কাজ করার পরে, আপনার টাকা উত্তলণ করার জন্য, পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করা অতন্ত্য জরুরী।

পেওনিয়ার-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম-বাংলাদেশ

আজকের আর্টিকেলে আমরা পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই চলুন দেরি না করে এখনি আর্টিকেলটি শুরু করা যাক।

সূচিপত্রঃ পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সহজেই খুলুন একাউন্ট

পেওনিয়ার কি? (Payoneer ki)

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সম্পর্কে বর্তমানে অনেকেই জানার চেষ্টা করছে। পেওনিয়ার হল একটি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ইন্টারন্যাশনাল ভাবে পেমেন্ট করতে পারবেন ও গ্রহণ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সার, ছোট ব্যবসা সহজে কোন বিজনেসের পেমেন্ট এর জন্য মূলত এই পেমেন্ট সিস্টেমটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় তম গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেম যা প্রায় ২০০টির অধিক দেশে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। 

এখনকার সময়ে পিওনিয়ারের ৪ মিলিয়ন মানে ৪০ লক্ষের অধিক একটিভ ব্যবহারকারী রয়েছে। ২০২২ সালের প্রথম দিকে তথ্য মতে পেওনিয়ার ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপর পেমেন্ট লেনদেন করেছে। আর এই পেমেন্ট সিস্টেম টা সবচেয়ে অধিক ব্যবহার করা হয় কানাডা, যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র,ফিলিপিনস,   জার্মানি, ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলো। 

পেওনিয়ার মূলত ২০০৫ সালে এই Yuval Tal এবং Michael Shpigler দ্বারা তৈরি হয়েছিল।পেওনিয়ারের  হেডকোয়াটার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত  এছাড়াও বিশ্বের  ৮টির অধিক বেশি তাদের অফিস রয়েছে । 

পেওনিয়ার কোম্পানিতে অনেক বড় বড় বিলিয়নিয়ার এবং ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ যার ফলে খুব সহজেই এটি বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে এবং সবার বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য যত পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে তার মধ্যে পেওনিয়ার সবচাইতে কম ট্রানজেকশন ফি। এর কারণেই ইউজাররা খুব কম ট্রানজেকশন লেনদেন করতে পারে।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অবস্থান করে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা তুলনামূলক সহজ। মূলত একটি পেওনিয়ার একাউন্ট দুই হবে তৈরি করা সম্ভব। 

১) ব্যক্তিগত 

২) বিজনেস একাউন্ট 

১) ব্যক্তিগত ও বিজনেস একাউন্ট পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম

ব্যক্তিগত একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে আপনার সকল ইনফরমেশন কালেক্ট করে রাখতে হবে। এরমধ্যে রয়েছে আপনার এন আইডি কার্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃত যে কোন ব্যাংকের একাউন্ট। 

যদি আপনি বিজনেস অ্যাকাউন্ট বানাতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনার কোম্পানির জন্য ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ট্যাক্স ইনফর্মেশন প্রয়োজন হবে, একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং তার পাশাপাশি আপনার নির্দিষ্ট ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু ইনফরমেশন বা তথ্য প্রয়োজন হবে। 

আপনি  উপরের দুই ভাবেই একাউন্ট তৈরি করতে পারেন আপনার প্রয়োজন অনুসারে। মূল কথা হচ্ছে আপনার যদি ইনফরমেশন এবং ব্যাংক একাউন্ট থাকলে তাহলে আপনি খুব সহজেই পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

আপনি চাইলে আপনার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও খুব সহজে পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। নিচের সমস্ত গাইডলাইন মেনে। আপনারা চাইলে ল্যাপটপ কিংবা পিসি দিয়েও খুব সহজেই একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। 

১. সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার এনআইডি সাথে রাখতে হবে এবং ব্যাংক একাউন্ট জোগাড় করতে হবে। আর যে কোন ধরনের বিজনেস একাউন্ট খোলার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।

আপনার সমস্ত ডকুমেন্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনাকে চলে আসতে হবে পেওনিয়ার এর ওয়েবসাইটে। যার জন্য আপনি চাইলে এই google থেকে সরাসরি তাদের ওয়েব সাইটে মেইন পেজে চলে আসতে পারেন। 

২. তাদের অফিসিয়াল পেজটি সম্পূর্ণ লোড নেওয়ার পরে আপনি  হেডারের মধ্যে রেজিস্টার নামে একটি বাটনযুক্ত অপশন পাবেন। মূলত এই রেজিস্টার অপশনটির মাধ্যমেই পেনিয়ার একাউন্ট তৈরি করা হয়। আপনি চাইলে এই লিংকে প্রেস করেও সরাসরি তাদের রেজিস্ট্রার অপশনে নিয়ে চলে যেতে পারবেন। 

৩. এই পেজটি সম্পূর্ণ লোড নেওয়ার পর আপনার যত বেশি ইনফরমেশন রয়েছে তা ভালোভাবে খেয়াল করে পূরণ করে দিন। খুবই সহজ বেসিক ইনফরমেশন গুলো। যেমন- আপনার টাকাগুলো মূলত কোথা থেকে আসবে, আপনি কেন পেওনিয়ার ব্যবহার করবেন, এক মাসে কত টাকা আসতে পারে । 

৮.উক্ত তথ্য গুলো সব পূরণ করে দেয়ার পর আপনি Next বাটনে ক্লিক করে দিবেন। এবার আপনাকে সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি পেজে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে রেজিস্টার  বাটনটিতে ক্লিক করুন।

৫. পরবর্তীতে আপনি একটি নতুন পেজে চলে আসবেন এই পেজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি ইন্ডিভিজুয়াল একাউন্ট চাচ্ছেন না বিজনেস একাউন্ট করতে চাচ্ছেন। আপনি যে ধরনের অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চান সেই অপশন ক্লিক করবেন। তারপরে নিচে  নাম, ইমেল অ্যাড্রেস এবং জন্মতারিখ সঠিকভাবে দিবেন।

এখানে আপনার আইডেন্টি কার্ড অনুযায়ী সমস্ত ইনফরমেশন দেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে পরবর্তীতে আপনার একাউন্টে ভেরিফিকেশনের সময় এবং কোন প্রকার সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি সহযোগিতা পাবেন। এই সমস্ত ইনফরমেশন দেয়ার পর পরবর্তী অর্থাৎ নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

৬. এবার আপনার কন্টাক্ট ইনফরমেশন সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। এই ধাপে এসে কোন প্রকার ভুল করা যাবে না। আপনার সকল কন্টাক্ট ইনফরমেশন গুলো সঠিক হতে হবে। সর্বপ্রথম আপনি কোন দেশের নাগরিক সেটা সিলেক্ট করতে হবে। এর পরবর্তীতে আপনার গ্রাম, শহর, জিপ কোড এবং অন্যান্য অ্যাড্রেস ইনফরমেশন গুলো যুক্ত করতে হবে।

ইনফরমেশন গুলো দেয়ার সাথে সাথে আপনাকে একটি সচল ফোন নাম্বার দিতে হবে। আপনি যে ফোন নাম্বারটি দিবেন সেই নাম্বারে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে তাই নাম্বারটি আপনার সাথে রাখুন। নাম্বারের কোডটি ব্যবহার করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

৭. next বাটনটিতে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে সিকিউরিটি সম্পর্কে সকল ইনফরমেশন দিতে হবে। যেমন আপনার পাসওয়ার্ড ও এনআইডি নাম্বার ইত্যাদি। একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যেন আপনার ইউজারনেম আপনার ইমেইল থাকে সেখানে কোন প্রকার চেঞ্জ করতে যাবেন না। 

সকল ইনফরমেশন সঠিক ভাবে দেওয়ার পর আপনি নিচে একটি ক্যাপচা দেখতে পারবেন ক্যাপচাটি ভালোভাবে পূরণ করুন।  সঠিকভাবে সবকিছু পূরণ করার পর নেক্সট বাটনে প্রেস করতে হবে।

৮. ইনফরমেশন দেওয়ার পর আপনাকে পরবর্তী পেইজে চলে আসতে হবে এবং সেখানে আপনার ব্যাংক ডিটেইলস ও কারেন্সি প্রদান করতে হবে। আপনি সর্বপ্রথম কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চেয়েছিলেন বিজনেস নাকি পার্সোনাল সেটা আবার ভালো করে খেয়াল করে নিবেন এবং সেখান থেকে আপনার প্রধান কারেন্সি সিলেক্ট করতে হবে। 

এর পরবর্তীতে আপনাকে আপনার ব্যাংকের ডিটেইলস যেমন ব্যাংকের নাম, একাউন্টধারির নাম এবং একাউন্টের নাম্বার প্রদান করতে হবে। এই সমস্ত ইনফরমেশন দেয়ার পর নিচে তাদের এগ্রিমেন্টের টিক মার্ক দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সাথে সাথে আপনার অ্যাকাউন্টটি তৈরি হয়ে যাবে।পরবর্তীতে আপনার ইমেইলটি তাদের কাছে এপ্রুভ হয়েছে কিনা এর জন্য রিপ্লে একটি ইমেইল আসবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা অ্যাকাউন্টটি করে থাকে কিন্তু কিছু কিছু সময় সমস্যা হয়। 

এরপর অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনি আপনার সকল তথ্যাদী গুলো দিয়ে অবশ্যই আপনার একাউন্ট ভেরিফাই করতে ভুলবেন না। 

পেওনিয়ার থেকে বিকাশে টাকা আনার নিয়ম

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনি জেনে গেছেন এখন আপনাকে জানতে হবে কিভাবে পেওনিয়ার থেকে টাকা উত্তোলন করবেন। এটাও খুবই সহজ পদ্ধতি। পেওনিয়ার থেকে বিকাশে উত্তোলন করার জন্য, আপনাকে নিম্নলিখিত  ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবেঃ 

  • ফোনে বিকাশ অ্যাপটি ইন্সটল করুন এবং ওপেন করে আপনার একাউন্ট কানেক্ট করুন।
  • এরপর হোম স্ক্রিনের মেনু থেকে "রেমিটেন্স" আইকনে ট্যাপ করুন।
  • "রেমিটেন্স" থেকে "পেওনিয়ার"-অপশন এ ট্যাপ করুন।
  • আপনার পেওনিয়ার একাউন্টের যে ই মেইল রয়েছে সেটি এবং পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করে লগ ইন করুন।
  • পেওনিয়ার একাউন্টে যদি 2-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা থাকে তাহলে আপনার ফোনে একটি কোড আসবে সেই কোডটি ব্যবহার করুন।
  • ভেরিফাই হওয়ার পর পরবর্তী অপশনে যাওয়ার জন্য আপনাকে agree বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে।
  • এরপর আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট এর সাথে বিকাশ একাউন্টটি যুক্ত হয়ে যাবে।
  •  আপনার পেওনিয়ার একাউন্টটি বিকাশ একাউন্টের সাথে সফলভাবে যুক্ত হয়েছে।  
  • এখন আপনি কোন দেশের মুদ্রা উইথড্র করতে চান এবং কত টাকা উইথড্র করতে চান তা সিলেক্ট করুন। 
  • "Withdraw" বোতামে ট্যাপ করুন।
  • আবার আপনার নাম্বারে পেওনিয়ার থেকে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে সেটা লিখুন। 

ভেরিফিকেশন কোড দেয়ার পর সাথে সাথে আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট থেকে আপনার বিকাশে টাকা গুলো রেমিটেন্স হয়ে চলে আসবে। আর এটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় সেজন্য আপনাকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। 

পেওনিয়ার থেকে বিকাশে উইড্র করার শর্তাবলী

পেওনিয়ার থেকে বিকাশে টাকা উইড্র করার সময় আপনাকে বেশ কিছু শর্তাবলী মেনে নিতে হবে। পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনি জেনে গেছেন‌ এবং টাকা উত্তোলনের নিয়মও জেনেছেন। এবার জানতে হবে এর শর্তাবলী গুলো। চলুন জানা যাক,

  • পেওনিয়ার একাউন্টটি  আপনার মোবাইলে কানেক্ট   থাকতে হবে।
  • একই এনআইডি কার্ড দিয়ে পেওনিয়ার  এবং  বিকাশ উভয় স্থানে ভেরিফিকেশন করে চেক করে নিতে হবে তা না হলে একাউন্টে টাকা আসবে না।
  • পেওনিয়ার একাউন্টের সাথে একটি বৈধ ইমেইল যোগ করতে হবে।
  • আপনার পেওনিয়ার একাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকতে হবে।
  • পেওনিয়ার থেকে বিকাশে উত্তোলনের জন্য, তাদের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে। সাধারণত তাদের নিয়ম হচ্ছে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করবেন তার ২% ফি হিসাবে দিতে হবে।

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড কি 

পেওনিয়ার মাস্টার  কার্ডটি  একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন উভয় জায়গায় পেমেন্ট করা সম্ভব। মূলত এটি এক ধরনের ডেবিট কার্ড। এই কার্ডের দুই ধরনের কাজ রয়েছে অনলাইনে ও অফলাইনে।

আপনি পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড দিয়ে সরাসরি দোকান থেকে কোন কিছু কিনে পেমেন্ট করতে পারবেন,ATM থেকে টাকা তুলতে পারবেন । অনলাইনে কেনাকাটা করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলে, যখন ১০০ ডলার লেনদেন করবেন তখন, আপনি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডটি অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন। পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডটি আপনার কাছে পৌঁছাতে ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড ব্যবহার করা খুব সহজ। 

আপনি চাইলে পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল যেকোনো পেমেন্ট করতে পারবেন। আপনি আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডটি অনলাইনে এবং অফলাইন অথবা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবেন। পেওনিয়ার  মাস্টার কার্ড ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। 

এছাড়া অন্যান্য কার্ডের তুলনায় এটি অনেক বেশি সিকিউরিটি যুক্তকিন্তু সব থেকে বড় সমস্যা হল মাস্টার কার্ডের তারা বাৎসরিক মেইনটেনেন্স  চার্জ হিসেবে প্রায় ৩০ ডলারের মত আপনার কাছ থেকে কেটে নিবে। যেটা অনেকজনের কাছে খুবই বড় একটা অ্যামাউন্ট হতে পারে। 

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডের সুবিধা  

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডের অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে। আর এ কারণেই মানুষ পেওনিয়ার একাউন্ট খুলে থাকে। সুবিধা গুলো জানা যাক-

  • পেওনিয়ার একাউন্টের কার্ড গুলো ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ব্যবহার করা যায়। যার ফলে আপনি বিশ্বের যেকোন দেশে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
  • পেওনিয়ার এর মাস্টার কার্ডগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ। 
  • পেওনিয়ারে কার্ডগুলো ব্যবহার করা খুবই সহজ । 
  • অনলাইনে যে কোন কিছু কিনে পেওনিয়ার কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। 
  • মাস্টার কার্ড এমন একটি কাজ যা বিশ্বের যে কোন দেশের সাপোর্ট করবে এবং আপনি বিশ্বের যেকোনো দেশের এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠাতে পারবেন।

পেওনিয়ার এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

পেওনিয়ার একটি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেম হওয়ায় এর অনেকগুলো সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। যদিও সার্বিক দিক বিবেচনা করে এর অসুবিধার তুলনায় সুবিধা অনেক বেশি। 

যেহেতু বাংলাদেশে পেপাল ব্যবহার করা সম্ভব নয় এর ফলে পেওনিয়ার আমাদের অন্যতম  বিশ্বাসযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম। কিন্তু পেওনিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। চলুন তাহলে আমরা সেগুলো জেনে নেই।

পেওনিয়ারের সুবিধা

১. বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের সুযোগ 

পেওনিয়ার একটি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেম যার কারনে আপনি পেওনিয়ার স্বীকৃত দেশগুলো থেকে খুব সহজেই যেকোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন।বর্তমানে ২০০ টির বেশি দেশে এবং ১৫০ টার বেশি কারেন্সিতে লেনদেন করা সম্ভব। 

আপনি যদি অনলাইন ব্যবসা ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে যুক্ত থাকেন তাহলে খুব সহজেই পেওনিয়ার এর মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহন করতে পারবেন।

২. তুলনামূলক কম ট্রানজেকশন ফি

বর্তমানে যে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমগুলো রয়েছে সবগুলোর থেকে তুলনামূলক কম ট্রানজেকশন ফ্রি পেওনিয়ারের মধ্যে। এদের ট্রানজেকশন শুধুমাত্র ২% অর্থাৎ আপনি যদি ১০০ ডলার লেনদেন করেন তাহলে আপনার কাছ থেকে মাত্র ২ ডলার ট্রানজেকশন ফ্রি হিসেবে নিবে। 

অন্যদিকে পেপাল ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট পর্যন্ত নিয়ে থাকে। আপনি যদি অনলাইন ভিত্তিক কোন ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে পেওনিয়ার আপনার জন্য সেরা অপশন হতে পারে।

৩. মাল্টিপল কারেন্সি 

আপনি চাইলে এক সময়ে একাধিক কারেন্সির মাধ্যমে আপনার লেনদেন সম্পূর্ণ করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে আপনার ভিন্ন ভিন্ন ক্লাইন্ট কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কারেন্সিতে একই সময়ে লেনদেন করতে পারবেন। এর জন্য অতিরিক্ত কোন ফি প্রদান করতে হবে না।

৪. শক্তিশালী কাস্টমার সার্ভিস 

ধরুন আপনি অনলাইনে একাউন্টটি ব্যবহার করছেন ঠিক ওই সময় আপনার জীবনে একটি সমস্যা দেখা দিল আপনি চাইলে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের কাস্টমার সার্ভিস নিতে পারেন। তাদের কাস্টমার সার্ভিসটি অতি সহজেই খুবই প্রফেশনাল ভাবে প্রদান করে। 

৫. সহজেই একাউন্ট সেটআপ 

পেওনিয়ারের অ্যাকাউন্ট সেটাপ করা খুবই সহজ। পেওনিয়ার তাদের ওয়েবসাইটকে এমন ভাবে সাজিয়েছে যেন নতুন ইউজাররাও খুব সহজেই তাদের একাউন্টগুলোকে ভালোভাবে সেট আপ করতে পারে। 

একাউন্টে যে সকল ইনফরমেশন রয়েছে আপনি চাইলে খুব সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। রিসিভ কিংবা ব্যালেন্স ট্রান্সফার এবং অন্যান্য কার্যক্রম গুলো খুব সহজেই করতে পারবেন। 

৬. ফ্রিতে USA এর ব্যাংক একাউন্ট

আপনি যখন পেওনিয়ার এর একাউন্ট খুলবেন এর সাথে সাথে আপনাকে ইউএসএ এর একটি  ব্যাংক একাউন্টের সম্পূর্ণ ‌ডিটেলস প্রদান করা হবে। এই একাউন্ট ব্যবহার করে আপনি চাইলে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে টাকা আপনার একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। এইটি ডিটেইলস গুলো আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে পাবেন। 

৭. ফ্রি মাস্টার কার্ড

আপনার যখন ১০০ ডলার আপনার একাউন্ট দিয়ে লেনদেন করবেন তখন আপনাকে তারা একটি ফ্রি মাস্টার কার্ড প্রদান করবে। যা দিয়ে আপনি অনলাইন কিংবা অফলাইন সব স্থানে পেমেন্ট করতে পারবেন। এই বিষয়ের উপরে ভালোভাবে উল্লেখ করেছি।

৮. সুরক্ষিত ট্রানজেকশন 

আপনি যদি খুব সুরক্ষিতভাবে ট্রানজেকশন করতে চান তাহলে পেওনিয়ার  ব্যবহার করুন। আপনার অ্যাকাউন্টভিত্তিক যত ধরনের সিকিউরিটি সুবিধা রয়েছে সব তারা প্রদান করবে। 

এছাড়াও টু স্টেপ অথেন্টিকেশন বা ভেরিফিকেশন এর মতো সুবিধা রয়েছে। যার ফলে আপনার একাউন্টের কোন লেনদেন হতে গেলে আপনাকে তারা মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারবে।এগুলো ছাড়াও আরো অনেক এদের সুবিধা রয়েছে। 

পেওনিয়ারের সমস্যা বা অসুবিধা

১. দীর্ঘ ভেরিফিকেশন পিরিয়ড 

পেওনিয়ার ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য কার্যকলাপগুলো করতে অনেক দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করে। যেটা পেওনিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধা । এছাড়াও মাস্টার কার্ড রিসিভ করতে কমপক্ষে ২২ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যেটা অধিক সময় নষ্ট করে বলে আমি মনে করি।

২. একাউন্ট ডিলিট প্রবলেম 

যদি এবার হয় আপনি কোন একটি সমস্যার কারণে টানা এক বছর একাউন্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না তাহলে আপনার একাউন্টটি অটোমেটিক ডিলিট হয়ে যাবে। 

ধরেন আপনার একাউন্টিতে ১০০ ডলার ছিল কিন্তু আপনি যেকোন কারণবশত এক বছরে একাউন্ট থেকে কোন ধরনের লেনদেন করেননি তখন আপনার একাউন্টটি পেওনিয়ার ডিলেট করে দিবে। এটি খুবই বড় একটি অসুবিধা

৩. সব স্থানে ব্যবহারযোগ্য নয় 

পেওনিয়ার‌ পেমেন্ট সিস্টেম খুব জনপ্রিয় হলেও এর ব্যবহার ও চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম। অনলাইনে লেনদেনের ক্ষেত্রে খুব কম জায়গায় দেখা যায় যে পেমেন্ট অপশনে পেওনিয়ার‌ রয়েছে ।

পেপাল কে যেমন সমস্ত স্থানে ব্যবহার করা যায় কিন্তু পেওনিয়ারকে এইভাবে সমস্ত স্থান ব্যবহার করা যায় না। যেটা তাদের অন্যতম একটি বড় অসুবিধা বলে আমি মনে করি।

৪. মাস্টার কার্ড রিনিউ

শুরুতে মাস্টার্ড কার্ড ফ্রিতে দিলেও। পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিবছর মেনটেনেন্স ফি বাবদ ৩০ ডলার অতিরিক্ত দিতে হয়।

পেওনিয়ার এর বিকল্প

বর্তমানে অনলাইনে পেওনিয়ারের অনেকগুলো বিকল্প পাওয়া যায়।  আপনি যদি কারণে পেওনিয়ার এ সন্তুষ্ট না হতে পারেন তাহলে এর বিকল্পগুলো আপনি অবশ্যই ইউটিলাইজ করতে পারবেন।  তাহলে চলুন জেনে নেই সেরা পাঁচটি ইউনিয়নের বিকল্প সম্পর্কে ;

১. স্ক্রিলঃ বর্তমানে এই পেমেন্ট সিস্টেমটা অনেক দ্রুত গতিতে সবার সামনে পৌঁছে যাচ্ছে। অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম গুলোর মত এখানেও অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন। স্ক্রিলে কোন মাস্টার কার্ড আপনি পাবেন না। অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম এর চাইতে এখানে ট্রানজেকশন ফি বেশি। এছাড়া সকল সুবিধা আপনি পেয়ে যাবেন

২. Xoomঃ যেহেতু পে পাল বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তাই আপনি চাইলে এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে xoom ব্যবহার করতে পারেন। এখানে আপনি বিজনেস রিলেটেড লেনদেন করতে পারবেন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা গুলো সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন । 

৩. মানিগ্রামঃ মানিগ্রাম ও একটি তুলনামূলক জনপ্রিয় পেমেন্ট গ্রহন এবং প্রদান করার জন্য। মানিগ্রাম ব্যবহার করে আপনি আপনার অনলাইনে ইনকাম করা টাকাগুলো খুব সহজেই আপনার ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন।এখানে অনেকগুলো সুবিধা পাবেন কিন্তু ট্রানজেকশন ফি একটু বেশি। পুরো বিশ্বব্যাপী এই পেমেন্ট   সিস্টেমটা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। 

৪. wiseঃ হয়তোবা আপনাদের মধ্যে অনেক জনের ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার সহ অন্যান্য লোকাল মার্কেটার রা এই পেমেন্ট সিস্টেমটা ব্যবহার করতেছে।  এখানেও তুলনামূলক সকল প্রকার সুবিধা পেয়ে যাবেন পেওনিয়ার এবং পেপালের মতো। পুরো বেশির ব্যাপী এটা ব্যবহার করতে পারবেন। তুলনামূলক ট্রানজেকশন ফি একটু বেশি।  

৫. Stripeঃ স্ট্রাইপ পশ্চিমা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয় একটি পেমেন্ট সিস্টেম ।স্ট্রাইপ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ক্লাইন্ট কিংবা বিজনেসের সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারবেন। 

আপনি যদি ইউরোপের দেশগুলোকে কেন্দ্র করে কাজ করতে চান তাহলে এই পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার উচিত। এখান থেকে আপনার আপনার ব্যাংক একাউন্টে Stripe এ উপার্জিত অর্থ নিয়ে আসতে পারবেন। 

পেওনিয়ারের ফি এবং চার্জ

নিচের দেয়া ফ্রি এবং চার্জ সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অর্থাৎ ২০২৪ সাল অনুযায়ী পেওনিয়ারের ফি এবং চার্জ টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো

লেনদেনের ধরন ফি

  • অর্থ স্থানান্তর ২% থেকে ৪%
  • অনলাইনে কেনাকাটা ২% থেকে ৪%
  • আন্তর্জাতিক লেনদেন ২% থেকে ৪%
  • মাস্টার কার্ড ইস্যু ফি ২৯ ডলার
  • বিকাশে টাকা উত্তোলন ২%
  • অপ্রত্যাশিত লেনদেন ফি ৭৫ ডলার
  • অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ফি ৫০ ডলার

Payoneer কত শতাংশ ট্রানজেকশন ফি নেয়?

পেওনিয়ার তাদের প্রত্যেকটি ট্রানজেকশনের ২-৩% পর্যন্ত ট্রানজেকশন ফি নেয়। আপনি যদি বেশি পরিমাণে ট্রানজেকশন করেন তবুও ২% ট্রানজেকশন ফি হিসেবে  তারা নিবে। ধরে নেন আপনি যদি ১০০ ডলার লেনদেন করেন তাহলে ট্রানজেকশন ফ্রি হিসেবে পেওনিয়ার ২% অর্থাৎ ২ ডলার  কেটে নিবে । 

যেখানে পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড ব্যবহার করা যায় 

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ এ প্রয়োগ করে আপনি অনলাইনে সমস্ত জায়গায় পেওনিয়ারের মাস্টার কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। যেমন;

  • অনলাইন প্রডাক্ট ক্রয় করতে পারবেন। 
  • অনলাইন বিল প্রদান করতে পারবেন। 
  • মাইক্রোসফট এড ,গুগল এড,  ফেসবুকে এড,  অন্যান্য সকল এড প্রচারের ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে উত্তোলন করতে পারবেন। 
  • যেকোনো প্রকার টপআপ করতে পারবেন। 
  • ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করতে পারবেন। 
  • এদের মাস্টার কার্ড অনলাইনে সকল যাবতীয় কাজে ব্যবহার করা যায় । 

লেখকের মন্তব্যঃ পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ সহজেই খুলুন একাউন্ট

যারা অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য ও পেমেন্ট নেওয়ার জন্য একটি মাধ্যমের খোঁজ করছেন পেওনিয়ার তাদের জন্য সেরা একটি মাধ্যম হতে পারে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অনলাইন পেমেন্ট নেওয়ার জন্য পেওনিয়ার বেস্ট। 

পেওনিয়ার এ যে সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন অন্যান্য পেমেন্ট একাউন্টে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যত তথ্য ছিল তা আর্টিকেলের শুরুতে বলা হয়েছে। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি থেকে আপনি কিছুটা হলেও উপকৃত  হয়েছেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url